আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার কথা জানালেও কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান বলছে, ‘যুদ্ধ’ এবং ‘যুদ্ধবিরতি’ একসঙ্গে চলতে পারে না-এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম BBC-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরুর আগে হাজার হাজার বছর ধরে এই প্রণালি উন্মুক্ত ছিল। তবে এটি আন্তর্জাতিক জলসীমা নয় এবং এখানে নিরাপদ চলাচল অনেকাংশে ইরান ও ওমানের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন থেকে সরে না এলে প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, খাতিবজাদেহ মূলত লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক হামলার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। সাক্ষাৎকারে নিরাপদ চলাচল প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ইরান চায় প্রণালিটি শান্তিপূর্ণ থাকুক এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনেই চলাচল নিশ্চিত করা হোক। একইসঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজের ‘অপব্যবহার’ মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
এর আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। তেহরানের অভিযোগ, ১০ দফা চুক্তির অন্তত তিনটি শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে—এর মধ্যে লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকা, ইরানে ড্রোন হামলা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু উল্লেখযোগ্য।
প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন দেশের তেলবাহী জাহাজগুলোকে ফিরে যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শর্ত স্পষ্ট-হয় যুদ্ধবিরতি বজায় থাকবে, নয়তো ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ চলবে। দুটি একসঙ্গে সম্ভব নয়।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে টোল আদায়ের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এই পথে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরান অর্থ আদায় শুরু করেছে।
তেহরানের বার্তা স্পষ্ট-এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা যুক্তরাষ্ট্রের। তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে কি না, সেটিই এখন বিশ্ব দেখছে।


