রমজানের শুরুতে লেবুর দাম নিয়ে যে হাঁসফাঁস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, কয়েক দিনের ব্যবধানে সেখানে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। রাজধানী ঢাকা–র বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতিটি লেবু ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ রোজার শুরুর দিকে একই লেবুর দাম ছিল প্রায় তিনগুণ বেশি।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজারে দেখা যায়, মাঝারি মানের এক হালি লেবু ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারে বড় হলে দাম উঠছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। রোজা শুরুর আগের দিন ও প্রথম দুদিন একই মানের লেবু ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে সময় এই দামে এক ডজন ডিম বা এক কেজির বেশি ছোলা কিংবা চিনি কেনা যেত বলে মন্তব্য করেন ক্রেতারা।
শুধু লেবুই নয়, শসার বাজারেও কিছুটা ছাড় মিলেছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে প্রতি কেজি শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় নেমেছে। কাঁচামরিচের ক্ষেত্রেও দাম কমেছে। মানভেদে বর্তমানে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
বিক্রেতারা জানান, রমজানের প্রথম দিকে শরবতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লেবুর বিক্রি বাড়ে এবং দামও চড়ে বসে। তবে দিন যত গড়াচ্ছে, ততই সেই চাপ কমছে। মালিবাগ বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, শুরুতে চাহিদা বেশি থাকায় দরকষাকষি কম হয়। এখন ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় দামও নেমেছে।
অন্যদিকে ইফতারের অন্যতম জনপ্রিয় পদ ‘বেগুনি’র প্রধান উপকরণ বেগুনের বাজার এখনো অস্থির। রোজার শুরুতে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া লম্বা বেগুন বর্তমানে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় উঠেছে। মাঝে সামান্য কমলেও আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানজুড়ে বেগুনের চাহিদা বেশি থাকায় দাম স্থিতিশীল রাখা কঠিন হচ্ছে। দু-একদিন দাম কমলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বাড়তি চাপ দেখা যায়। পাইকারি থেকে খুচরা—সব স্তরেই বাড়তি লাভের প্রবণতা থাকায় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বেশি দাম গুনতে হয়। বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।


