ঢাকাসোমবার , ২০ জুলাই ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জীবন বীমা ও ব্যাংক

লাইফ বীমার অর্থের লোভে বিষধর সাপ দিয়ে স্বামীকে হত্যা করল স্ত্রী ও প্রেমিক

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ জুলাই ২০২৬, ২:৫২ বিকাল

Link Copied!

ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে ২০ লাখ রুপির লাইফ বীমার অর্থ হাতিয়ে নিতে বিষধর সাপ ব্যবহার করে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের দাবি, ঘটনাটিকে স্বাভাবিক সাপের কামড়ে মৃত্যু হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলেও তদন্তে পরিকল্পিত হত্যার নানা আলামত পাওয়া গেছে।

পুলিশের তথ্যমতে, নিহত অতুল পানওয়ারের (৩৫) সঙ্গে স্ত্রী দামিনী পানওয়ারের বিয়ে হয় ২০১৯ সালে। তারা মিরাটের হস্তিনাপুর এলাকায় ‘কৃষ্ণা কিডস পাবলিক স্কুল’ পরিচালনা করতেন। তদন্তে উঠে এসেছে, স্কুলের গাড়িচালক তুষার ওরফে নিকির সঙ্গে দামিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, স্বামীকে সরিয়ে দিয়ে একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করা এবং অতুলের ২০ লাখ রুপির লাইফ বীমার অর্থ পাওয়াই ছিল অভিযুক্তদের পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে অতুলের দুধে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তুষার আরও দুই সহযোগীকে নিয়ে বাড়িতে আসে। এরপর একটি বিষধর সাপ অতুলের কম্বলের ভেতরে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।

পরদিন ঘটনাটি স্বাভাবিক সাপের কামড়ে মৃত্যু বলে দাবি করা হলেও নিহতের পরিবারের সন্দেহের পর তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, ফরেনসিক পরীক্ষার তথ্য এবং অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগের সূত্র খুঁজে পায়। এ ঘটনায় স্ত্রী, তার কথিত প্রেমিক এবং আরও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, এটি হত্যার প্রথম চেষ্টা ছিল না। ঘটনার প্রায় ২০ দিন আগে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে অতুলকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি হেলমেট পরা থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। পরে নতুন পরিকল্পনা হিসেবে বিষধর সাপ ব্যবহার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুই সহযোগীকে বীমার অর্থ থেকে পাঁচ লাখ রুপি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সাপ সংগ্রহের জন্য অগ্রিম অর্থও দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এখন পর্যন্ত তদন্তে জানা গেছে, অতুলের নামে ২০ লাখ রুপির একটি লাইফ বীমা পলিসি ছিল। তবে কোন বীমা কোম্পানির পলিসি, কবে নেওয়া হয়েছিল, নমিনি কে ছিলেন কিংবা মৃত্যুর পর আনুষ্ঠানিকভাবে বীমা দাবি করা হয়েছিল কি না—এসব তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ।

বীমা বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্দেহজনক মৃত্যু হলে শুধু মৃত্যু সনদের ভিত্তিতে বীমার অর্থ পরিশোধ করা হয় না। এ ধরনের ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ফরেনসিক পরীক্ষা, পুলিশ তদন্ত, কল রেকর্ড, বিষতত্ত্ব পরীক্ষার ফলাফল এবং আদালতের নথিসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হয়। তদন্ত ও আদালতের রায়ে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট বীমা দাবি বাতিল হতে পারে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি বীমার অর্থ পাওয়ার আইনগত অধিকার হারাতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিরাটের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, বীমা প্রতারণা ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং পুলিশ ও বীমা কোম্পানির মধ্যে দ্রুত তথ্য বিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

মোস্ট সাসটেইনেবল কোম্পানি অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জিতেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ

সারা দেশে আরও পাঁচ দিন বৃষ্টির আভাস, কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভূমিধসে নিহত ১৭, বাস্তুচ্যুত ৩ হাজার

ADB Warns Public Against Fraudulent Loan Scams in Bangladesh

Mulching Technology in Agriculture: VAT Support Can Reduce Farmers’ Costs and Boost Productivity

এডিবির নাম ব্যবহার করে ভুয়া ঋণের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্কবার্তা

কৃষিতে মালচিং পেপারে ভ্যাট কমানোর দাবি, উৎপাদন খরচ কমে লাভবান হবেন কৃষক

‘এভিয়েশন খাতকে সমৃদ্ধ না করলে দেশ কখনোই উন্নত হবে না’

ঢাকাসহ ১৭ অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ঝড়ের আভাস

সরবরাহ শঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার

কয়েক দিনের বৃষ্টির পর ঢাকার বায়ু মাঝারি

বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার পরিকল্পিত প্রয়োগ জরুরি