
বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে প্রবাসী আয়। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষ হতে এখনও দুদিন বাকি থাকলেও ইতোমধ্যে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা ২৬.৫ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুন মাসের প্রথম ২৮ দিনেই এসেছে ২৫৩ কোটি ৯২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৫ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ৩৬ কোটি ১২ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে সর্বোচ্চ ১৬১ কোটি ৬১ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
তবে এই রেকর্ড আয়েও পিছিয়ে রয়েছে আটটি ব্যাংক। চলতি অর্থবছরের পুরো সময়জুড়ে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এদের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসরকারি খাতে কমিউনিটি ব্যাংক, সিটিজেন্স ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক এবং বিদেশি খাতে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানামুখী পদক্ষেপ, প্রণোদনা, উৎসবকেন্দ্রিক আয় বৃদ্ধি এবং হুন্ডি প্রতিরোধে সক্রিয় তৎপরতা—সব মিলিয়ে এই প্রবাহ বাড়ছে।
প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা চলতি অর্থবছরে স্পষ্টভাবে লক্ষ করা গেছে। মার্চ মাসে এসেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার, আর মে মাসে এসেছে ২.৯৭ বিলিয়ন ডলার—যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
মাসওয়ারি রেমিট্যান্স প্রবাহও চাঙা ছিল। জুলাই থেকে মে পর্যন্ত প্রতিটি মাসেই ২ বিলিয়নের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে আগামী অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে এবং অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হবে।