পবিত্র রমজান মাস শুরু হতেই পাবনার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামবাংলায় বেড়ে গেছে গুড় তৈরির ব্যস্ততা। রোজাদারদের ইফতার ও সেহরিতে প্রাকৃতিক মিষ্টির চাহিদা মেটাতে রাত-দিন কাজ করছেন গুড় কারিগররা।
এই সময়ে আখের রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হয় খাঁটি গুড়। গ্রাম থেকে শহরে সবখানেই গুড়ের চাহিদা বাড়ছে। ইফতারের শরবত, পায়েস কিংবা বিভিন্ন পিঠাপুলিতে গুড় রমজানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখা দেয়।
তবে, কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গুড়ে চিনি, কেমিক্যাল বা রং মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করছেন। এতে কম দামে ভেজাল গুড় বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে এবং খাঁটি গুড়ের দামও কমে যাচ্ছে।
পাবনার চরতারাপুরের কৃষক মজিদ মোল্লা বলেন, “ভেজালমুক্ত গুড় তৈরি করতে আমাদের খরচ বেশি। আখ উৎপাদন ও শ্রমিক মজুরির খরচ মিলিয়ে উৎপাদন খরচই কষ্টকর। বাজারে ভেজাল গুড় থাকায় আমাদের খাঁটি গুড়ের দামও কমে যাচ্ছে।”
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাবনা জেলায় মিল জোন এবং নন-মিল জোন হিসেবে দুটি জোনে আখ চাষ হয়। চলতি বছরে মিল জোনে ১,০৩০ হেক্টর এবং নন-মিল জোনে ১৫৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। নন-মিল জোনের আখ থেকে এবার ৯২২ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
পাবনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক জানান, “চলতি বছরের আখ চাষ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে আখ উৎপাদনে সব কলাকৌশল ও দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খাঁটি গুড়ের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতেও আমরা কাজ করছি।”


