রংপুরের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে পোলট্রি মুরগির ডিম ও পেঁয়াজের দাম। পাশাপাশি কিছু শীতকালীন সবজির দামও নিম্নমুখী। তবে চাল-ডাল, মাছ ও মাংসের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রংপুর নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে এক হালি পোলট্রি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
এদিকে, পেঁয়াজের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত সপ্তাহে যেখানে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, সেখানে এখন তা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। আমদানি করা পেঁয়াজও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচামরিচের দাম অপরিবর্তিত থেকে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে রয়েছে।
সবজি বাজারে দেখা গেছে, টমেটোর দাম কেজিপ্রতি ৭০-৮০ টাকা থেকে কমে ৫০-৬০ টাকায় নেমেছে। মূলা ৪০-৪৫ টাকা থেকে কমে ৩৫-৪০ টাকা, গাজর ৪০-৫০ টাকা, বাঁধাকপি ২৫-৩০ টাকা এবং ফুলকপি ৩৫-৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে পটল ও বরবটির দাম বেড়েছে। পটল বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা এবং বরবটি ৫০-৬০ টাকা কেজিতে।
এছাড়া বাজারে কাঁচকলা হালি ২০-২৫ টাকা, চিকন বেগুন ৩০-৪০ টাকা, গোল বেগুন ৫০-৬০ টাকা, শিম ৩০-৪০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা, শসা ও করলা ৭০-৮০ টাকা, লাউ (আকারভেদে) ৪০-৫০ টাকা এবং সব ধরনের শাক ১০ থেকে ২০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আদর্শপাড়া বৌ বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিছুর রহমান জানান, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙ্গা, পটল ও কাঁকরোলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিছু সবজির দাম কমছে না। তবে দেশি পেঁয়াজের আমদানি বাড়ায় পেঁয়াজের দাম কমেছে।
মুরগির বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি ২৭০-২৮০ টাকা, হাইব্রিড মুরগি ২৫০-২৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫০০-৫২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস অপরিবর্তিত ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকা কেজি দরে রয়েছে।
আলুর বাজারে পুরোনো কার্ডিনাল আলু ১৫-২০ টাকা, নতুন কার্ডিনাল ৩০-৩৫ টাকা, নতুন সাদা আলু ২০-২৫ টাকা এবং বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ৩৫-৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫-২০০ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৮০-২০০ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) ১৫০-১৬০ টাকা, মুগডাল ১৬০-১৮০ টাকা এবং চিনি ১১০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজারে স্বর্ণা, বিআর২৮, বিআর২৯, জিরাশাইল ও মিনিকেট চালের দাম গত সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।
মাছের বাজারেও দাম স্থিতিশীল। আকারভেদে রুই মাছ ৩০০-৩৮০ টাকা, কাতল ৩০০-৫০০ টাকা, পাঙাশ ১৫০-২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৫০ টাকা এবং শিং মাছ ৩০০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে রংপুরের বাজারে ডিম ও পেঁয়াজের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।


