পৌষের কনকনে শীত এবং ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে জমে উঠেছে মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিম মাছের আড়ত। ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রাচীন হাটে ইলিশসহ নানা প্রজাতির মাছের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। তবে ইলিশের দামে যেন ‘আগুন’ লেগেছে; ছোট-বড় সব ধরনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে চড়া মূল্যে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খোলা আকাশের নিচে বসা হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাকডাকে মুখর পরিবেশ। দেশের অন্তত ১৫টি জেলা থেকে এখানে মাছ আসে। তবু দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। ছোট ইলিশ ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দামও উঠেছে ২ হাজার টাকার কাছাকাছি।
ইলিশ ছাড়াও আইড়, রুই, কাতল, মৃগেলসহ খাল-বিলের তাজা মাছ ও সামুদ্রিক মাছে হাট সয়লাব। আজ শিং মাছের পসরা ভিন্ন ধরনের; সাধারণত রঙ ব্যবহার করা হয়, তবে আজ প্রাকৃতিক শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে। চাষের টেংরা মাছ পলিথিনে পানি দিয়ে জিভে রাখা হয়েছে।
হাটে ব্যবসায়ীরা জানান, মীরকাদিমে ৪৫টি মূল আড়ত এবং বেশ কিছু উপ-আড়ত রয়েছে। ভোর থেকেই মুন্সীগঞ্জ ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, দোহারসহ আশপাশের এলাকার পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা ভিড় করেন। মাত্র দুই-তিন ঘণ্টায় এখানে কোটি টাকার মাছ বেচাকেনা হয়।
তবে ঘন কুয়াশার কারণে নৌ ও সড়কপথে যাতায়াত ধীরগতিতে হওয়ায় হাটে ক্রেতা ও মাছের সরবরাহ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। প্রাচীন এই বন্দরে নাব্য সংকটের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চগুলো সরাসরি ভিড়তে পারছে না, ফলে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এছাড়া হাটে প্রবেশের সড়ক সরু হওয়ায় যাতায়াতেও ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
মীরকাদিম আড়তে মাছের দামের তালিকা অনুযায়ী, ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত। নদীর পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকায়, আর চাষের পাঙ্গাস ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। চাষের রুই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের কাতল ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় এবং নদীর কাতল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
দেশি বোয়াল ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, চাষের বোয়াল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় এবং গলদা চিংড়ি ৬০০ থেকে ১,০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। নদীর আইর এবং দেশি কৈ কেজিপ্রতি যথাক্রমে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের কৈ ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়, দেশি শিং ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকায় এবং চাষের শিং ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে চিতল এবং কোরাল মাছের দাম কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, তেলাপিয়া ও মৃগেল ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় এবং পোয়া ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাবদার দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।


