ঢাকামঙ্গলবার , ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

মানবসভ্যতা এগোচ্ছে এআইভিত্তিক জীবনযাপনের দিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ ১২:৪৭ অপরাহ্ণ । ২৮ জন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কল্যাণে দ্রুত বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রা। প্রযুক্তির এই দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে ভবিষ্যতে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এমনকি পুরো সমাজই ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে-এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে সাম্প্রতিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনগুলো।

গত মাসের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রদর্শনী কনজিউমার ইলেকট্রনিকস শো (সিইএস) ২০২৬-এ ভবিষ্যতের রান্নাঘরে ব্যবহারের জন্য এআইভিত্তিক নানা প্রযুক্তি তুলে ধরে স্যামসাং। এসব উদ্ভাবন মানবসভ্যতার এআইনির্ভর জীবনযাপনের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ ও কার্যকর করে তুলছে। রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিতে এআই সংযোজন এ ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি। আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করছি, যেখানে রান্নাঘরের দৈনন্দিন কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। তবে এআই মানুষের বিকল্প নয়; বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তার একটি শক্তিশালী টুল।

এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও সহজ ও নিখুঁত হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এআই-চালিত একটি ওভেন খাবারের ধরন অনুযায়ী কত সময় ও কী তাপমাত্রায় রান্না করতে হবে, তা নিজেই নির্ধারণ করতে পারে। ব্যবহারকারী যদি কেক বেক করার সঠিক সময় বা তাপমাত্রা না-ও জানেন, তাতেও সমস্যা নেই। ওভেন নিজেই প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিংস সামঞ্জস্য করে নেয়, ফলে খাবার পুড়ে যাওয়া বা কাঁচা থাকার ঝুঁকি থাকে না।

এআই সংযোজনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে রেফ্রিজারেটরের ক্ষেত্রেও। আধুনিক এআই-সমৃদ্ধ ফ্রিজ দরজা খুলতেই ভেতরে থাকা উপকরণের তালিকা দেখে কী রান্না করা যেতে পারে, সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে সক্ষম। শুধু রেসিপি নয়, ধাপে ধাপে রান্নার নির্দেশনাও দিতে পারে এই প্রযুক্তি। এতে রান্নার পরিকল্পনা সহজ হয় এবং দৈনন্দিন চাপ অনেকটাই কমে আসে।

এসব ধারণা এখন আর কল্পবিজ্ঞান নয়। সিইএস ২০২৬-এ ভবিষ্যতের রান্নাঘরে ব্যবহার উপযোগী এমন নানা এআই প্রযুক্তির প্রদর্শনী করা হয়েছে। পাশাপাশি স্যামসাং ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বাজারে ‘বিস্পোক এআই’ ধারণা চালু করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত সংস্করণ আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মানে মানুষের জায়গা দখল করা নয়; বরং মানুষের কাজকে আরও সহজ, স্মার্ট ও সময়সাশ্রয়ী করা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই লক্ষ্যেই ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।