গরমে আড্ডা দেওয়ার সময় বা বাইরের অনুষ্ঠানে প্রায় সবার সঙ্গেই মশা থাকে, কিন্তু কেন কারো ওপর বেশি কামড় দেয়, তা নিয়ে কৌতূহল স্বাভাবিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ মশার অতিরিক্ত ‘ভালোবাসা’-এর শিকার হন।
শুধু স্ত্রী মশারাই কামড়ায়
সব মশা কামড়ায় না। শুধুমাত্র স্ত্রী মশা মানুষ বা প্রাণীর রক্তে থাকা প্রোটিনের জন্য কামড়ায়, যা তাদের ডিম তৈরিতে সহায়ক হয়। শিকার খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে স্ত্রী মশাদের ঘ্রাণশক্তি অত্যন্ত প্রখর।
মশার আকর্ষণের কারণ
১. কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন: যাদের শরীর থেকে বেশি কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের হয়, মশারা তাদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। তাই ওজন বেশি থাকা ব্যক্তি বা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ওপর মশার কামড় বেশি হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মশা কামড়ানোর হার সাধারণ মানুষের তুলনায় দ্বিগুণ।
২. ঘাম, তাপ ও ব্যায়াম: ব্যায়াম বা প্রচণ্ড পরিশ্রমের সময় শরীর থেকে ল্যাকটিক অ্যাসিড নিঃসৃত হয়, তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং ঘামের গন্ধ তৈরি হয়। এসব সংকেত মশার কাছে সহজেই ধরা পড়ে।
৩. জিনগত প্রভাব: কারো ত্বক থেকে নির্দিষ্ট রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যা মশাকে বেশি আকৃষ্ট করে। এটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
৪. রক্তের গ্রুপ: গবেষণায় দেখা গেছে, ‘ও’ ও ‘এবি’ গ্রুপের রক্ত মশার কাছে তুলনামূলক বেশি প্রিয়। তাই এই গ্রুপের রক্তধারীরা মশার ‘ফেভারিট’ হয়ে যেতে পারেন।
মশার কামড় থেকে বাঁচার উপায়
মশার কামড় শুধু বিরক্তিকর নয়, বরং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশার কামড় কমানোর জন্য যেসব বিষয় নিয়ন্ত্রণযোগ্য, সেগুলোর দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি দূর করা, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, মশা তাড়ানোর প্রাকৃতিক উপায় ব্যবহার, হাত-পায়ের খোলা জায়গায় মশা নিরোধক লোশন ব্যবহার।
যিনিসমূহ পরিবর্তন না করা গেলেও সম্মিলিত সচেতনতা ও সঠিক অভ্যাস মশার কামড় কমাতে সাহায্য করতে পারে।


