ঢাকাশনিবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে দুই মাস মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ ১২:০৯ অপরাহ্ণ । ২৯ জন

জাটকা সংরক্ষণ এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে সব ধরনের মাছ শিকারে আগামী দুই মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৬১ দিন ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় সব প্রকার জাল ফেলা ও মাছ শিকার বন্ধ থাকবে। মৎস্য বিভাগ এই সময়ে নদীর অভয়াশ্রমগুলোতে মাছের প্রজনন বাড়ার কারণে প্রতিবছর এই নিষেধাজ্ঞা দেয়।

দীর্ঘ দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভোলার জেলেরা চরম আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজনের জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে গেছে। বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় তারা হিমশিম খাচ্ছেন।

জেলেরা দাবি করেছেন, নিষেধাজ্ঞার সময় এনজিও ঋণ ও খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। ভোলার তুলাতুলি, কাঠিরমাথা, নাছিরমাঝি, হেতনার খাল, ভোলার খাল ও মাঝিরহাট মাছঘাটে জেলেরা তাদের জাল ও নৌকা সরঞ্জাম নদী থেকে তুলে নিচ্ছেন এবং সরকারি আইন অমান্য করবেন না বলে জানিয়েছেন।

জেলেরা অভিযোগ করেছেন, সাধারণ জেলেরা নদীতে না নামলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাছ শিকার করেন, ফলে ইলিশের উৎপাদন কমে যায়। তারা এসব অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, মার্চ ও এপ্রিল মাসে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, জেলেদের আর্থিক সংকট নিরসনের জন্য প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চাল দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার। এছাড়া বিপুল সংখ্যক অনিবন্ধিত জেলেরাও এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

জেলেরা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে ইলিশের সংকট এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের জীবনযাপন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এনজিও ঋণ ও জালের কিস্তি পরিশোধের সমস্যা এখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।