
ভারতে কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকানোর প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে Food Safety and Standards Authority of India (এফএসএসএআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফএসএসএআইয়ের তথ্যমতে, আম ও কলার মতো জনপ্রিয় ফল দ্রুত বাজারজাত করতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে ফল পাকাতে ইথেফোনসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিকের অপব্যবহার বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।
সম্প্রতি হায়দ্রাবাদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে হায়দ্রাবাদে নিষিদ্ধ ইথিলিন রাইপার ব্যবহার করে আম পাকানোর অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়।
এক বিজ্ঞপ্তিতে এফএসএসএআই দেশের সব খাদ্য নিরাপত্তা কমিশনার ও আঞ্চলিক পরিচালকদের বাজার ও হিমাগারগুলোতে নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ফল সরাসরি ইথেফোন দ্রবণে ডুবিয়ে রাখা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে—ফলের সঙ্গে রাসায়নিকের সরাসরি সংস্পর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এছাড়া ফল পাকানোর গুদামগুলোতে বিষাক্ত অ্যাসিটিলিন গ্যাস শনাক্ত করতে বিশেষ স্ট্রিপ পেপার ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই স্ট্রিপ সন্দেহভাজন ফল থেকে নির্গত গ্যাস পরীক্ষা করে কৃত্রিম পাকানোর প্রমাণ দেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল পাকাতে ব্যবহৃত ক্যালসিয়াম কার্বাইড মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি শ্বাসকষ্ট, গিলতে সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদে পাকস্থলীতে আলসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে দিল্লি এবং হরিয়ানাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল ভোজ্য তেল ও নকল ওষুধও জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ।
সাধারণ ভোক্তাদের সতর্ক করে এফএসএসএআই জানিয়েছে, অস্বাভাবিক উজ্জ্বল বা অত্যধিক রঙিন ফল এড়িয়ে চলা উচিত। সন্দেহজনক প্রলেপযুক্ত ফল না কেনার পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি।