ঢাকাশনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. নিরাপদ খাদ্য

ভর্তুকি ছাড়াই বাজারদরের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৪:৫৫ বিকাল

Link Copied!

বাজারদর কমিয়ে ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডভিত্তিক বিতরণ ব্যবস্থার বাইরে খোলাবাজারে নির্বাচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির নতুন পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এ উদ্যোগে বিদেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে সংগ্রহ করা পণ্য কোনো সরকারি ভর্তুকি ছাড়াই প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ সম্প্রতি তাঁর কার্যালয়ে বাসসকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি উদ্যোগ এবং বর্তমান সরকারের চিন্তা থেকেই এর সূত্রপাত।

প্রাথমিকভাবে ভোজ্যতেল দিয়ে এ কার্যক্রমের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হবে। প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের প্রথম চালান সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা তেল দিয়ে শুরু করছি। ডাল কম দামে সংগ্রহ করতে পারলে ডালও বিক্রি করব। চিনি কম দামে সংগ্রহ করতে পারলে চিনিও বিক্রি করব।’

তিনি জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের মধ্যে পণ্য বিক্রি সীমাবদ্ধ না রেখে সব ভোক্তার জন্য নির্বাচিত পণ্য কেনার সুযোগ তৈরি করা হবে। অর্থাৎ খোলাবাজারে সবাই এসব পণ্য কিনতে পারবেন।

প্রাথমিকভাবে তিন থেকে চার মাস এ কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়ে বাজারে এর প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করা হবে। প্রথম চালানকে ‘পাইলট লট’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বাজারে সংগ্রহ করা পণ্য কার্যকরভাবে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে কি না, তার ওপর উদ্যোগটির ধারাবাহিকতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।

ফয়সল আজাদ বলেন, পণ্য এনে যদি বিক্রি করা সম্ভব না হয়, তাহলে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। তবে বিক্রি কার্যকর হলে উদ্যোগটি আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।

টিসিবি চেয়ারম্যান স্পষ্ট করে বলেন, খোলাবাজারে প্রস্তাবিত পণ্য বিক্রিতে সরকার কোনো ভর্তুকি দেবে না। প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সংগ্রহ করে তুলনামূলক কম মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে ভোক্তাদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করবে টিসিবি।

তিনি বলেন, যেহেতু কম দামে পণ্য সংগ্রহ করা হবে, তাই কিছুটা কম দামেই তা বিক্রি করা সম্ভব হবে। তবে বিক্রয়মূল্য প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম থাকবে।

পণ্য ও সংগ্রহমূল্যের ওপর নির্ভর করে প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় প্রতি ইউনিটে প্রায় ১০ থেকে ১২ টাকা কম দামে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হতে পারে বলে জানান তিনি।

চেয়ারম্যান বলেন, এ উদ্যোগ মৌসুমভিত্তিক হবে না। প্রাথমিক পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল মূল্যায়ন করে সফল হলে কর্মসূচি সম্প্রসারণের কথা বিবেচনা করা হবে।

ভোজ্যতেলের দাম বর্তমানে বেশি এবং বাজারে এর চাহিদাও শক্তিশালী হওয়ায় প্রাথমিকভাবে এ পণ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। ফয়সল আজাদ বলেন, ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে এবং বর্তমানে এর দামও বেশি। কম দামে সংগ্রহ করা সম্ভব হলেই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে।

পরবর্তী সময়ে চিনি ও ডালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও প্রতিযোগিতামূলক দামে সংগ্রহ করা সম্ভব হলে খোলাবাজারে বিক্রির আওতায় আনা হতে পারে বলে জানান তিনি।

তবে টিসিবি সব সময় সব পণ্যের বাজারে হস্তক্ষেপ করবে না। সরবরাহ বা দামের ওপর চাপ তৈরি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পণ্য বাজারে আনা হবে বলে জানান চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত খোলাবাজারে বিক্রয় কার্যক্রম টিসিবির বিদ্যমান ভর্তুকিমূল্যে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির বিকল্প নয়। এটি ওই কার্যক্রমের পাশাপাশি অতিরিক্ত একটি উদ্যোগ হিসেবে পরিচালিত হবে। ভর্তুকির কার্যক্রম আলাদা থাকবে; নতুন ব্যবস্থায় পণ্য বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে।

টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, বিদ্যমান দায়িত্বের আওতাতেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর জন্য আলাদা কোনো নামও নির্ধারণ করা হয়নি। এটি টিসিবির স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত হবে।

পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না বলেও জানান তিনি। টিসিবির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চলতি বাজেটেই প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, বর্তমানে অতিরিক্ত কোনো বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন নেই। ইতোমধ্যে চলতি বাজেটে এ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

টিসিবি চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেন, পরীক্ষামূলক উদ্যোগ সফল হলে পরবর্তীতে আরও বেশি পণ্য এর আওতায় আনা সম্ভব হবে। পাইলট কার্যক্রম সফল হলে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রতিযোগিতামূলক দামে খোলাবাজারে টিসিবির উপস্থিতি বাড়ানো গেলে সামগ্রিক বাজারদর কমাতেও তা ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, টিসিবি বাজারে পণ্য দিতে পারলে স্বাভাবিকভাবেই দাম কমতে শুরু করবে।

টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, নতুন এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সংগ্রহ করে খোলাবাজারে বিক্রির মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে নির্বাচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কম দামে পৌঁছে দেওয়া। প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে কার্যক্রমটি পরীক্ষা করে সফলতার ভিত্তিতে পরে বৃহত্তর পরিসরে সম্প্রসারণ করা হবে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

টিসিবির কার্যক্রমে ডিজিটাল রূপান্তর, সাশ্রয় হবে ৩০০-৩৫০ কোটি টাকা

দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’ নির্মাণ করবে সরকার

চীনে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধার ঘোষণা

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা, সম্ভাব্য নাম ‘অর্নব’

‘সমন্বিত জলবায়ু পদক্ষেপ’ রক্ষা করতে পারে কোটি কোটি মানুষের প্রাণ

২০২৬ সালের ১২ সিনেমায় ৭৫১ বার দেখানো হয় ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের দৃশ্য

রাজস্ব বৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় তামাক কর নীতি প্রণয়ন জরুরি

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কুষ্টিয়ায় ফের বিএটিবি কর্মীদের মানববন্ধন

ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে প্রযুক্তি ও জনবলে শক্তিশালী করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

হাওরে হাঁস চড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

টিসিবির কার্যক্রমে আসছে ডিজিটাল নজরদারি, বাদ ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারী

আগামী মাসে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত