ঢাকাশনিবার , ১০ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য
  3. লাইফস্টাইল

বিশ্বে ১০০ কোটির বেশি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত

প্রতিবেদক
বিপ্লব হোসাইন
১০ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৫ বিকাল

Link Copied!

বিশ্বজুড়ে ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। বাংলাদেশেও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। এ পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, আক্রান্ত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সহজলভ্য ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান নিয়ে আজ ১০ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য-‘Lived experiences heard: real voices, real change’। বাংলায় এর ভাবার্থ-‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এ বছরের প্রতিপাদ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শুধু তাদের কথা শোনা নয়, বরং সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাস্তব পরিবর্তন আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মানসিক স্বাস্থ্যকে শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালন করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানসিক সুস্থতা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাপ সামলানো, নিজের সক্ষমতা বিকশিত করা, শেখা, কাজ করা এবং সমাজে অবদান রাখার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তাই মানসিক স্বাস্থ্য কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও মানবাধিকারেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। উদ্বেগ ও বিষণ্নতাজনিত সমস্যা এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। সংস্থাটির মতে, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং এ বিষয়ে প্রচলিত নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দূর করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বাংলাদেশেও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা ও সেবা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত ২০১৯ সালের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, দেশে ১৮ থেকে ৯৯ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ১৩ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

জরিপে আরও দেখা যায়, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পায়নি। এসব পরিসংখ্যান দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের বড় ধরনের ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে। তবে তথ্যগুলো ২০১৯ সালের জরিপের ফলাফল; বর্তমান পরিস্থিতির সরাসরি পরিমাপ হিসেবে এগুলোকে বিবেচনা করা উচিত নয়।

মানুষের অভিজ্ঞতা শোনা কেন জরুরি

এ বছরের প্রতিপাদ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের নিজস্ব অভিজ্ঞতা শোনা এবং সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কার্যকর পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যাঁরা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা সেবার সীমাবদ্ধতা, প্রয়োজন এবং উন্নতির ক্ষেত্রগুলো বুঝতে সহায়তা করতে পারে।

তবে শুধু অভিজ্ঞতার কথা বলার সুযোগ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। তাঁদের মতামত যেন নীতিনির্ধারণ, চিকিৎসাসেবা পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণেও প্রতিফলিত হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ভালোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।

মানসিক সমস্যায় থাকা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাঁদের অভিজ্ঞতাকে অবজ্ঞা না করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর প্রয়োজন

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা অনেক সময় মানুষকে চিকিৎসা বা পরামর্শ নেওয়া থেকে দূরে রাখে। মানসিক সমস্যাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দোষারোপ করা কিংবা তাঁর অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব না দেওয়ার প্রবণতা সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা বাড়ানো প্রয়োজন। মানসিক সমস্যায় থাকা ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ, তাঁর গোপনীয়তার প্রতি সম্মান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদার সহায়তা নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি।

মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এবং কুসংস্কার ও বৈষম্য কমাতে সচেতনতামূলক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁদের সম্মতি ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রয়োজন সহজলভ্য ও মানসম্মত সেবা

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কেবল বিশেষায়িত হাসপাতাল বা বড় শহরকেন্দ্রিক থাকলে অনেক মানুষের পক্ষে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয়, প্রশিক্ষিত জনবল বৃদ্ধি, কমিউনিটিভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসার ব্যয় মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো, চিকিৎসা ও পরামর্শের সুযোগ সম্প্রসারণ, শিশু-কিশোরদের মানসিক সুস্থতায় গুরুত্ব দেওয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সেবার মান উন্নয়ন এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোও জরুরি।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের মূল বার্তা হলো-মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে, তাঁদের কথা শুনতে হবে এবং সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু সচেতনতা তৈরি নয়, প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে নিজের কষ্টের কথা বলতে পারবেন এবং প্রয়োজনের সময়ে মানসম্মত সহায়তা পাবেন।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

বিশ্বে ১০০ কোটির বেশি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত

জামালপুরে বাসচাপায় শাশুড়ি-পুত্রবধূ নিহত

মৌসুমি বায়ু বিদায়, আগামী পাঁচ দিন কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ‘যাও পাখি বলো তারে’র গায়িকা কৃষ্ণকলি

বন্ধুর মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

ফ্লোরিডায় ক্যাটাগরি ২ হারিকেনের আঘাত, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা

ওসমানীনগরে তিন গাড়ির সংঘর্ষে নিহত ২

মা ইলিশ রক্ষায় অভিযানে তিন জেলে আটক

চট্টগ্রামে সাইকেল আরোহীদের জন্য পৃথক ট্র্যাক চালু

দেড় বছরের মধ্যে দেশজুড়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ার ঘোষণা সরকারের

স্পেনের গুহায় মিলল নিয়ান্ডারথালদের কাঠের তৈরি অস্ত্র, পাত্র ও হাতুড়ি

জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় উপকূলে ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ