
চট্টগ্রামে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিরল মশাবাহিত ভাইরাস Japanese Encephalitis। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়–এর অধ্যাপক অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি। তার মৃত্যুতে চিকিৎসক ও সচেতন মহলে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ড. জুথির শরীরে জাপানিজ এনসেফালাইটিসের প্রায় সব উপসর্গ ছিল। ভাইরাসটির আক্রমণে তার একাধিক স্ট্রোক হয় এবং দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মে জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা ও বমি নিয়ে অসুস্থ হন তিনি। প্রথমে সাধারণ ফ্লু মনে হলেও দ্রুত পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। পরে ৫ মে তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল–এ ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে এইচডিইউ এবং পরে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের গঠিত মেডিকেল বোর্ড বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ৬ মে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম–এ স্থানান্তর করে। তবে ততক্ষণে ভাইরাসটি তার মস্তিষ্কে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
মেট্রোপলিটন হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের চিকিৎসক ডা. কাউসারুল আলম জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার মাল্টিপল স্ট্রোক হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল এবং তাকে কয়েক দফা সিপিআর দিতে হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় তিনি প্রায় ব্রেইন ডেড অবস্থায় ছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানিজ এনসেফালাইটিস মূলত কিউলেক্স মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং এটি সরাসরি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার বেশি এবং অনেকে স্থায়ী স্নায়বিক জটিলতায় ভোগেন।
ড. জুথির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সিভাসুর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একজন নিবেদিতপ্রাণ গবেষক ও বিজ্ঞানীকে হারিয়েছে।
সিভাসুর শিক্ষার্থী আরমান হোসেন বলেন, “ম্যাডাম চট্টগ্রামেই আক্রান্ত হয়েছেন নাকি বিদেশ থেকে ভাইরাসটি বহন করে এনেছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে এ ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।”
জানা গেছে, ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়–এর ২০০৭-০৮ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি তিনি হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি এবং কিউশু ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-ডক সম্পন্ন করে দেশে ফেরেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি সিভাসুতে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান।
তার স্বামী প্রফেসর ড. শাহরিয়ার হাসেম অর্নব বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়–এর শিক্ষক। তাদের পাঁচ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।