অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ-এমন বাস্তবতায় ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে প্যাকেটজাত খাবার ও কোমল পানীয়র মোড়কে স্পষ্ট স্বাস্থ্য সতর্কতা বাধ্যতামূলক করার দাবি উঠেছে। এজন্য দ্রুত ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও করণীয়’ শীর্ষক পরামর্শ সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ), আর্ক ফাউন্ডেশন ও পাবলিক হেলথ ল ইয়ার্স নেটওয়ার্ক যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে। সভায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, ভোক্তা অধিকার আন্তর্জাতিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
পরামর্শ সভায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৭০% মৃত্যুর জন্য বর্তমানে অসংক্রামক রোগ দায়ী। এসকল অসংক্রমক রোগের প্রধান কারণ চিনি, লবণ এব চর্বিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার। মোট জনসংখ্যার ৯৭% প্রতি সপ্তাহে প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ করে, সুস্পষ্ট পুষ্টি সম্পর্কিত তথ্যের অভাবে জনগণ গুরুতর স্বাস্থ্য ক্ষতি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বক্তারা বলেন, প্রতি বছর প্রায় ৬.৪ মিলিয়ন মানুষ চিকিৎসা করতে গিয়ে দারিদ্র হয়ে যাচ্ছে।
বক্তারা আরো বলেন, স্পষ্ট এবং দৃশ্যমান লেবেল ছাড়া, ভোক্তারা বিশেষ করে শিশুরা বিভ্রান্তিকর বিপণনের ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান বেশিরভাগ কার্বনেটেড পানীয় এবং জুসের উপর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সতর্কতার অনুপস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি এবং আন্তজার্তিক স্ট্যাডার্ড -র পরিপন্থি। “ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং ডব্লিউএউচও প্রস্তাবিত একটি প্রমাণিত পদ্ধতি, যা ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্য পছন্দ করার ক্ষমতা দেয় এবং খাদ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে বাধ্য করে।
বক্তারা বলেন, নাগরিকদের মোড়কে লিখিত খাদ্যের মান দেখে পণ্য কেনার বিষয়ে সচেতন করতে হবে। যদি এ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায় তবে উৎপাদনকারীরাও মোড়কে সঠিক তথ্য প্রদানে বাধ্য হবে। একই সাথে আইনের মাধ্যমে মোড়কে সঠিক তথ্য প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তারা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে একটি বিজ্ঞান-ভিত্তিক, সহজ বোধগম্য ফ্রন্ট অফ প্যাকেজ লেবেলিং ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বার্থান্বেষীদের প্রভাবে থেকে নীতিকে রক্ষা এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ কৌশলের সাথে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
সভায় উপস্তিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. শোয়েব সদস্য, (খাদ্য শিল্প উৎপাদন) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ইন্জিঃ মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন উপ পরিচালক (মেট্রোলজি) বি এস টি আই, এডভোকেট মোঃ রুহুল কুদ্দুস বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড জি এইচ এ আই, অধ্যাপক ড. মোঃ আতিকুল হক, চেয়ারম্যান, জনস্বাস্থ্য বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন, চেয়ারম্যান, জনস্বাস্থ্য বিভাগ বিভাগীয় প্রধান স্টেট ইউনিভাসিটি, অধ্যাপক রুমানা হক, নির্বাহী পরিচালক আর্ক ফাউন্ডেশন, অধ্যাপক ড. সোহেল রেজা চৌধুরী, রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ সদস্য, সচিব পাবলিক হেলথ ল ইয়ার্স নেটওয়ার্ক, রি ওজাকি, প্রধান উপদেষ্টা স্বাস্থ্য প্রজেক্ট জাইকা, , এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম সেক্রেটারি, সি এল পি এ , অধ্যাপক আ ফ ম সারোয়ার কনসালটেন্ট সি এল পি এ, আমিনূল ইসলাম বকুল হেড অব প্রোগ্রাম সি এল পি এ, কামরুন্নিছা মুন্না পলিসি এনালিস্ট সি এল পি এ, পলাশ চন্দ্র বনিক, সহযোগি অধ্যাপক বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস, অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম লিন্টু নির্বাহী পরিচালক ডাস,ফাহমিদা ইসলাম সদস্য সিটিজেট নেটওয়ার্ক, সহযোগী অধ্যাপক বজলুল রহমান, সদস্য সচিব, বাংলাদেশে সেন্টার ফর গভর্নেন্স এন্ড ডেভালাপমেন্ট, সৈয়দা অনন্যা রহমান হেড অব প্রোগ্রাম ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, ফারহানা জামান লিজা, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আবুল কালাম আজাদ ক্যাব, সীমা দাস সীমু, পরিচালক, উবিনিক, ফরিদা পারভীন ফ্লোরা, এডভোকেট এপিলেট ডিভিশন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, এডভোকেট মোঃ আওলাদ হোসেন,গ্লোবাল লিগ্যাল স্টাডিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, মেনেজালমালা, নির্বাহী পরিচালক, কসমস, সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।


