ঢাকাশুক্রবার , ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

পোল্ট্রি বাজারে স্বস্তি, মাছ ও লাল মাংসে চাপ অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ ১২:৫৮ অপরাহ্ণ । ৪৪ জন

রমজানের শুরুতে যে ঊর্ধ্বগতিতে পোল্ট্রি মুরগির দাম বেড়েছিল, এখন সেখানে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। রাজধানী ঢাকা–র বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি কক ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকায় মিলছে। বিক্রেতারা জানান, রোজার শুরুতে এসব মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি ছিল।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) যাত্রাবাড়ী ও শনিরআখড়া এলাকার বাজারগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেছে। যাত্রাবাড়ীর এক পোল্ট্রি ব্যবসায়ী বলেন, রমজানের প্রথম সপ্তাহে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরবরাহ বাড়ায় এখন দাম কিছুটা কমেছে। খামার পর্যায়ে দাম কমায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন–এর এক কর্মকর্তা জানান, খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বাড়লেও উৎপাদন স্বাভাবিক থাকায় বড় ধরনের সংকট হয়নি। সামনে সরবরাহ ঠিক থাকলে দাম আরও স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তবে মাছ ও লাল মাংসের বাজারে এখনো চাপ কমেনি। অধিকাংশ মাছের দাম রোজার শুরুর তুলনায় খুব একটা কমেনি। তুলনামূলক কম দামের মাছের মধ্যে পাঙ্গাস এগিয়ে, যা আকারভেদে ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা এবং মৃগেল ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বোয়াল বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে।

ইলিশের বাজারেও দাম চড়া রয়েছে। ছোট আকারের জাটকা ইলিশ প্রায় ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় ইলিশের দাম উঠেছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া চিংড়ি ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, কৈ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাবদা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ী আড়তের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, রমজানে ইফতারে মাছের চাহিদা বাড়ে, বিশেষ করে ইলিশ ও বড় মাছের চাহিদা বেশি থাকায় দাম সহজে কমে না। নদীতে মাছের সরবরাহ আগের তুলনায় কম বলেও দাবি করেন তিনি।

মাংসের বাজারেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। রোজার আগে গরুর মাংস বিক্রি হতো কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকায়। রমজানের শুরুতে তা বেড়ে ৮৫০ টাকায় ওঠে। বর্তমানে ৫০ টাকা কমিয়ে ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হলেও আগের দামে ফেরেনি। এক মাংস ব্যবসায়ী জানান, পশুখাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় পুরোপুরি দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। পাইকারি পর্যায়ে গরুর দাম কমলে খুচরা বাজারেও সমন্বয় করা যাবে।

অন্যদিকে খাসির মাংস ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, দেশীয় খাসির সরবরাহ সীমিত এবং চাহিদা বেশি থাকায় দাম উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

ভোক্তাদের অভিযোগ, রমজান এলেই মাছ-মাংসের বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। পোল্ট্রি খাতে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাছ ও লাল মাংস এখনো অনেকের নাগালের বাইরে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।