ঢাকামঙ্গলবার , ৩১ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

পিরোজপুরে সুপেয় পানির তীব্র সংকট, জনজীবনে চরম ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ৩১, ২০২৬ ১:৩০ অপরাহ্ণ । ১৫ জন

চারপাশে নদী ও খাল থাকলেও সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ভুগছে দক্ষিণাঞ্চলের জেলা পিরোজপুরের পৌরবাসী। গরমের শুরুতেই এই সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পানির অভাবে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক ভাড়াটিয়া এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, নদী ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় পিরোজপুর পৌরসভার একমাত্র শোধনাগারটি চরম সংকটে পড়েছে। এতে পৌরসভার প্রায় দুই লাখ বাসিন্দা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। দিনে দুইবার দুই ঘণ্টা করে পানি সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে এক ঘণ্টাও পানি মিলছে না। কখনো আবার একদিন পর একদিন পানি দেওয়া হচ্ছে।

পিরোজপুর পৌরসভার দীর্ঘদিনের ইতিহাস থাকলেও সুপেয় পানির সমস্যার সমাধান হয়নি। ১৯৮৩ সালে চালু হওয়া পানি শোধনাগার থেকে শুরুতে ঘণ্টায় ৫০ হাজার লিটার পানি উৎপাদন হতো। সময়ের সাথে উৎপাদন বেড়ে এখন প্রায় তিন লাখ লিটার হলেও তা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অনেক কম। পৌরবাসীর জন্য প্রতি ঘণ্টায় প্রায় নয় লাখ লিটার পানির প্রয়োজন, কিন্তু উৎপাদন তার এক-তৃতীয়াংশেরও কম।

পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুজন খান জানান, প্রায় ১৮ হাজার টাকা খরচ করে তিনি পৌরসভার পানির সংযোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পানি না পাওয়ায় তা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফজলুর রহমান বলেন, পানির সমস্যার কারণে ভাড়াটিয়ারা দীর্ঘদিন থাকছেন না, অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

এদিকে পানি শোধনাগারের কর্মচারীরা বলছেন, সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংকট কাটছে না। তাদের মতে, শোধনাগারের পুকুর খনন এবং পুরোনো চিকন পাইপ পরিবর্তন করে মোটা পাইপ স্থাপন করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

পৌরসভার পানি ও পয়োনিষ্কাশন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান জানান, গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে নদী ও খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় পানির সরবরাহ কমে গেছে, যার ফলে সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি আরও জানান, নতুন একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে, যা বাস্তবায়িত হলে পানির সমস্যা কিছুটা সমাধান হতে পারে।

চরম এই পানির সংকটে পিরোজপুর পৌরবাসীর দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।