ঢাকাসোমবার , ১২ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

পঞ্চগড়ে শীতের দাপট বাড়ছে, কুয়াশা ও ঠান্ডায় স্থবির জনজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ১২, ২০২৬ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ । ১৪৮ জন

হিমালয়ের পাদদেশ ঘেঁষা অবস্থানের কারণে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে এবারও শীতের প্রকোপ তীব্র আকার ধারণ করেছে। উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসের সঙ্গে কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় নাজুক হয়ে পড়েছে জেলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯২ শতাংশ, আর বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। এতে করে প্রকৃত শীতের অনুভূতি তাপমাত্রার চেয়েও বেশি অনুভূত হচ্ছে। এর আগে শুক্রবার তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমেছিল ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা বিরাজ করছে। অনেক স্থানে দুপুর গড়ালেও সূর্যের দেখা মিলছে না। সকাল ও সন্ধ্যার পর কুয়াশা আরও ঘন হয়ে ওঠায় সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।

শীত ও কুয়াশার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে। দিনমজুর, চা-বাগানের শ্রমিক, পাথর শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষজন নিয়মিত কাজে যেতে না পারায় আয় কমে গেছে। এতে করে অনেক পরিবার পড়েছে চরম অর্থকষ্টে।

বিশেষ করে ছিন্নমূল ও খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষদের জন্য শীতের রাতগুলো হয়ে উঠেছে আরও কঠিন। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে তারা তীব্র দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সহায়তা না এলে শীতের কষ্ট আরও বাড়বে।

এদিকে একটানা শীত ও কুয়াশার কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়েছে। সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে এ ধরনের রোগীর চাপও ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে জানা গেছে।

তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, বর্তমানে তেঁতুলিয়াসহ পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ফলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।