
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তায় ৫ লাখ ডলার অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অর্থ দিয়ে দুর্গতদের জরুরি আশ্রয়, পানি, স্যানিটেশনসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করা হবে।
বুধবার নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিসেসের মাধ্যমে এই ৫ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি আশ্রয়, খাদ্য, ওষুধ, পানি, ত্রাণসামগ্রী, পয়ঃনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে অর্থটি ব্যয় করা হবে।
এ ছাড়া উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী বাহিনীকে পরামর্শ ও নির্দেশনা দিতে একজন উপদেষ্টাকেও নেপালে পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের সদস্যদের সমন্বয়ে এসব উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে ওই উপদেষ্টার নাম বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বান দেখা দেয়। রাসুয়ার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি নদী ভোটেকোশির অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিকে এ বন্যার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর রাসুয়ার বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা কাদা ও পাথরের স্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কমপক্ষে ৫৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজদের অধিকাংশই পর্যটক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ১০০ জনের বেশি ভারতীয়, ৫৪ জন মার্কিন, ৩৩ জন ব্রিটিশ এবং ১০০ জনের বেশি নেপালি নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া নিখোঁজদের তালিকায় কয়েক ডজন পুলিশ কর্মকর্তা, সেনাসদস্য ও বিদ্যুৎকর্মীও রয়েছেন।
ভয়াবহ এ দুর্যোগে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।