
দেশের ১৮ কোটি মানুষের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা পূরণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়–এর প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে গবেষণাকে আরও জোরদার করতে হবে এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।
শনিবার (৯ মে) রাজধানী ঢাকায় ‘টেকসই ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুড (বিএসএসএফ)-এর ৮ম জাতীয় বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুডের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. খালেদ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ সরোয়ার জাহান। এতে খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, গবেষক, কৃষিবিদ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি গবেষণা ও জনসচেতনতা তৈরিতে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুডের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর–এর মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ–এর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল–এর সভাপতি মসিউর রহমান।
উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল–এর সাবেক সদস্য পরিচালক (মৎস্য) ড. মো. মনিরুল ইসলাম। সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন একই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুস সালাম।
সম্মেলনে ‘সেফ ফুড অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান করা হয় সাপাহার উপজেলার উদ্যোক্তা মো. সোহেল রানাকে। এবারের সম্মেলনে তিনটি বৈজ্ঞানিক সেশনে মোট ১৫টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেশনে আরও চারটি গবেষণা প্রবন্ধ এবং প্রায় ৭০টি গবেষণা পোস্টার প্রদর্শিত হয়।
সম্মেলনের সহ-আয়োজক ছিল WorldFish, Heifer International Bangladesh, CABI International এবং Global Alliance for Improved Nutrition। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।