ঢাকামঙ্গলবার , ১৭ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

নওগাঁয় কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ফসল, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১৭, ২০২৬ ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ । ৮ জন

নওগাঁ জেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কলা, ভুট্টা, গম, আলু ও শাকসবজিসহ মোট ৭৩১ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কলা বাগানে।

রোববার (১৫ মার্চ) রাতে প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী ঝড় ও বৃষ্টিতে জেলার ১১টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঘুরে দাঁড়াতে এবং ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

সংস্থাটির তথ্যমতে, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ২২৫ হেক্টর জমির কলা, ২১৬ হেক্টর ভুট্টা, ২১৬ হেক্টর গম, ২৫ হেক্টর আলু এবং ৪৯ দশমিক ৫ হেক্টর শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৬৭ কোটি টাকার কলা এবং ৫ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ভুট্টা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝড়ের তাণ্ডবে কলা ও পেঁপে বাগানের গাছ ভেঙে পড়েছে, অনেক ক্ষেতেই কাঁদি নষ্ট হয়ে গেছে। গমের শীষ ভেঙে পড়েছে, ভুট্টার গাছ হেলে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে আলু ও শাকসবজির জমিতে পানি জমে রয়েছে।

বদলগাছী উপজেলার কুশারমুড়ি গ্রামের কলা চাষি জুয়েল রানা বলেন, এক রাতের ঝড়ে তার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একইভাবে চন্ডিপুর এলাকার কৃষক আহসান হাবীব জানান, তার গমের ক্ষেত ঝড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর-এর উপ-পরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন, কলা, ভুট্টা ও পেঁপের যে ক্ষতি হয়েছে, তা আর পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি জানান, বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় কৃষকদের দ্রুত পরিপক্ক ফসল তুলে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বোরো ধান রক্ষায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এ সময় ব্লাস্ট রোগের ঝুঁকি থাকায় ধানের শীষ গজানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রথম স্প্রে এবং এক সপ্তাহ পর দ্বিতীয় স্প্রে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ঝড়ের সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয় এবং প্রায় ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।