
দেশে বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব চললেও আক্রান্ত শিশুদের ৯৫ শতাংশ সুস্থ হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, সরকারের চলমান টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ৯৫ শতাংশ শিশু এসেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হামে শিশুমৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।
শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ নিউমোনিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের তুলনায় নিউমোনিয়ায় অনেক বেশি শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। প্রতিবছর নিউমোনিয়ায় প্রায় ২৪ হাজার শিশুর মৃত্যু হয় এবং প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন শিশু মারা যাচ্ছে।
শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিয়াউল হক বলেন, হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সফল টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে একসময় দেশে হামের সংক্রমণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। তবে গত দুই বছরে টিকাদান কার্যক্রমে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটায় চলতি বছরের মার্চ থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে।
তিনি জানান, গত ১৪ মে ২০২৬ পর্যন্ত গত দুই মাসে দেশে ৫৪ হাজার ৪১৯ জনের মধ্যে হাম ও হাম সদৃশ উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জন হামে এবং ৩৬৯ জন হাম সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে না আনলে জটিলতা বেড়ে যায়। হাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
তিনি আরও বলেন, হামের কারণে কিছু ক্ষেত্রে শিশুদের মস্তিষ্কও আক্রান্ত হতে পারে। তবে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুস্থ হওয়া সম্ভব। হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ১ শতাংশের ব্রেন আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন বলেন, দেশে বর্তমানে ব্রেস্টফিডিংয়ের হার ৫৬ শতাংশ। বাকি অনেক শিশু মাতৃদুগ্ধের বাইরে থাকছে, যা তাদের রোগপ্রবণ করে তুলছে। এছাড়া প্যাকেটজাত খাবারের প্রতি নির্ভরতা বাড়ায় শিশুরা বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. গোলাম সারওয়ার, অধ্যাপক ডা. আসিফ মোস্তফা এবং অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল কিবরিয়াসহ অন্যরা।