ঢাকাবুধবার , ১ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

তামাক পণ্যে নতুন কর কাঠামোর ইঙ্গিত, বাড়তে পারে দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১, ২০২৬ ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ । ৩৬ জন

সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যে নতুন কর কাঠামো প্রণয়ন, দাম বৃদ্ধি এবং রাজস্ব বাড়াতে কর ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। একই সঙ্গে চোরাচালান ও জাল স্ট্যাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকালে এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর সঙ্গে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের তামাকপণ্যের দাম পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় কম। ফলে রাজস্ব বাড়াতে নতুন কর কাঠামো প্রণয়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে সিগারেটে প্রায় ৮৩ শতাংশ কর আরোপিত থাকলেও কর ব্যবস্থার জটিলতা ও ফাঁকির কারণে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি জানান, এতদিন তামাকপণ্যে চার স্তরের মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু থাকলেও এটি পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে বিড়ি খাতে কর ফাঁকি বেশি হওয়ায় সেখানে যৌক্তিকীকরণ জরুরি। তবে এই খাতে বিপুল শ্রমিক জড়িত থাকায় সিদ্ধান্ত নিতে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

জাল স্ট্যাম্প ও নকল পণ্য প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও তুলে ধরেন তিনি। সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর (QR) ও এআর (AR) কোড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সহজেই আসল-নকল যাচাই করা যায়। পাশাপাশি ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস পদ্ধতি চালু করে বাজারে জালিয়াতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, সাধারণ মানুষকে ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ হিসেবে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কেউ নকল পণ্য শনাক্ত করে অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য দিলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে।

এছাড়া জব্দকৃত জাল সিগারেট ও তামাকপণ্য জনসমক্ষে ধ্বংসের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

আলোচনায় ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম ও সহসাধারণ সম্পাদক মানিক মুনতাছিরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।