বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার রাষ্ট্রীয় উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে তামাক কোম্পানিগুলো পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা)। জোটের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকদের এই অপতৎপরতা সম্পর্কে সজাগ থাকার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জোটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সরকার যখন তামাক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই তামাক কোম্পানিগুলো নিজেদের মুনাফা রক্ষায় নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, কোম্পানিগুলোর নানামুখী অপকৌশলের কারণেই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, “সরকারের লক্ষ্য তামাকের ব্যবহার কমিয়ে নাগরিকদের অসংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করা। অন্যদিকে তামাক কোম্পানির একমাত্র উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন। এই দুই লক্ষ্য পরস্পর সম্পূর্ণ বিপরীত ও সাংঘর্ষিক।”
বিশ্বজুড়েই তামাক কোম্পানিগুলো জনস্বাস্থ্যবান্ধব আইন ও নীতি দুর্বল করতে একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করে। অনেক দেশ ইতিমধ্যে তামাক কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা নিষিদ্ধ করে কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ।
এফসিটিসি-এর আর্টিক্যাল ৫.৩ অনুযায়ী, জনস্বাস্থ্য বিষয়ক নীতিমালাকে তামাক কোম্পানির বাণিজ্যিক স্বার্থ থেকে মুক্ত রাখার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এই নির্দেশনা অনুসরণে পদক্ষেপ নিলেও তামাক কোম্পানিগুলোর বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট আশা প্রকাশ করে যে, সরকার ও নীতিনির্ধারণী মহল কোম্পানিগুলোর কোনো প্রকার মিথ্যাচারে প্রলুব্ধ না হয়ে তামাক ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ আইনি কঠোরতা বজায় রাখবে। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
একইসঙ্গে, তামাক কোম্পানিগুলোর মিথ্যাচার ও জনস্বাস্থ্যবিরোধী প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়।


