ঢাকাসোমবার , ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

তরুণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণের ঘটনায় কঠোর শাস্তির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ১৯, ২০২৬ ১:৫৭ অপরাহ্ণ । ১৫১ জন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সম্প্রতি আয়োজিত ‘কুয়াশার গান’ কনসার্টে প্রকাশ্যে স্টল বসিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘ইয়ুথ ফর টোব্যাকো-ফ্রি বাংলাদেশ’।

সংগঠনটি জানিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং ‘স্পিরিট অব জুলাই’ প্ল্যাটফর্মের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তামাক কোম্পানির এই আগ্রাসী প্রচারণা দেশের বিদ্যমান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩)-এর সরাসরি লঙ্ঘন।

আইন লঙ্ঘনের বিশদ:

ধারা ৫(খ) ও ৫(গ) লঙ্ঘন: আইন অনুযায়ী, কোনো অনুষ্ঠানে বিনা মূল্যে তামাকজাত দ্রব্য বিতরণ বা তামাক ব্যবহারের উৎসাহ প্রদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা নষ্ট: আইনের ৬(খ) ধারা অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্যের বিপণন নিষিদ্ধ। কনসার্টে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর সামনে এই আইন ভঙ্গ করা হয়েছে।

‘ইয়ুথ ফর টোব্যাকো-ফ্রি বাংলাদেশ’-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “যেখানে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন ও সুস্থ সমাজ গঠন, সেখানে ‘স্পিরিট অব জুলাই’ ও ডাকসু-র ব্যানারে আয়োজিত কনসার্টে তরুণদের মরণনেশা সিগারেটে প্রলুব্ধ করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এটি কেবল আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের হুমকি।”

সংগঠনের দাবিসমূহ:

তদন্ত ও বিচার: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের চিহ্নিত ও সংশ্লিষ্ট তামাক কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ডাকসু-র জবাবদিহিতা: আয়োজক হিসেবে ডাকসু ও ‘স্পিরিট অব জুলাই’ প্ল্যাটফর্মকে ছাত্রসমাজের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।

কঠোর তামাকমুক্ত নীতিমালা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণকে শতভাগ তামাকমুক্ত ঘোষণা এবং তামাক কোম্পানির যে কোনো ধরনের প্রবেশাধিকার স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হবে।

সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (NTCC)-কে এই নজিরবিহীন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।