শীতকালে ঠান্ডা, সর্দি-কাশি এবং নানা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক কিছু উপাদান নিয়মিত গ্রহণ করলে শরীর সহজেই এসব রোগের বিরুদ্ধে লড়তে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নিম পাতা, যা শুধু আয়ুর্বেদ নয়, আধুনিক গবেষণাতেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) একে ‘একুশ শতকের বৃক্ষ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আয়ুর্বেদ ও আধুনিক গবেষণায় Nim-এর অদ্ভুত গুণাগুণ প্রমাণিত। Nim পাতায় থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়া, অ্যান্টি-ভাইরাস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি অন্ত্রের ক্ষতিকর জীবাণু নষ্ট করে পেট পরিষ্কার রাখে, হজম শক্তিশালী করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল ও সুস্থ রাখে।
নিম পাতার রস নিয়মিত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। নিমের পাতা, ছাল, মূল এবং কাঁচা ফলই বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর। গ্রামাঞ্চলে এখনও ত্বকের সমস্যা দূর করতে নিমের ছাল ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রতিদিন খালি পেটে কচি নিম পাতার রস খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং লিভার ও হৃদ্যন্ত্রও সুস্থ থাকে। চাইলে ১০টি নিম পাতা ও ৫টি গোলমরিচ একসঙ্গে বেটে খাওয়া যেতে পারে। আয়ুর্বেদ মতে, অল্প চিনি বা চিনির মিছরি মিশিয়ে খেলে কাশিও কমে।
কাঁচা নিম পাতা সব সময় পাওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে পাতাগুলো ধুয়ে শিল-পাটায় বেটে শুকিয়ে কাঁচের বোতলে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে Nim-এর গুণাবলীতে কোনো ক্ষতি হয় না এবং প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা সম্ভব।


