ঠাকুরগাঁওয়ে উৎপাদিত আলুর বাজারদর কমে কৃষকরা চরম আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। মৌসুমের শুরুতে কিছুটা দাম থাকলেও বর্তমানে আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪–৬ টাকা কেজি দরে। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না, বরং প্রতি কেজিতে ৯–১১ টাকা লোকসান হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়ে ১৫–১৬ টাকা। ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি ও আবহাওয়া আলু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় প্রতি বছর ব্যাপক আবাদ হয়। গত বছর ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হলেও এবার হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টরে। কৃষকদের দাবি, বাজার পরিস্থিতি বিগত কয়েক বছরের তুলনায় আরও খারাপ।
গত মৌসুমে সরকার ২২ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন আলু কিনতে ঘোষণা দিয়েছিল, তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়েছেন। হিমাগারে সংরক্ষিত আলু শেষ পর্যন্ত কম দামের কারণে বিক্রি হয়নি, যার কারণে এবার মাঠেই আলুর বড় অংশ পড়ে আছে।
ভানোর গ্রামের আলাউদ্দীন: “এক কেজি আলু উৎপাদনে ১৫–১৬ টাকা খরচ, বিক্রি হচ্ছে ৪–৬ টাকায়। লাভ তো দূরের কথা, আসলই উঠছে না।”
ঢোলঅরহাটের রাজু ইসলাম: “গতবার অনেক লোকসান হয়েছে। এবারও একই অবস্থা। সরকার দ্রুত আলু না কিনলে দাঁড়ানো যাবে না।”
পাইকপাড়া গ্রামের আব্দুল গনি: “গত বছর ৭ একর আলু চাষে ১০ লাখ টাকা ঋণ হয়েছে। এবার আরও ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে চাষ করেছি। দাম না পেলে বাড়ি ছাড়া হতে হবে।”
জীবন আলী: “ধান-চাল, গরু-ছাগল বিক্রি করে আলু চাষ করেছি। এখন বাজারে দাম নেই। সরকার রফতানির ব্যবস্থা করলে কিছুটা বাঁচা যেত।”
ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার আলু ব্যবসায়ী আলম জানিয়েছেন, “গত বছর পুঁজি হারিয়েছি। এবারও যদি দাম না বাড়ে, ব্যবসা টিকবে না। বিদেশে আলু যাচ্ছে, তবে পরিমাণ কম। রফতানি বাড়াতে পারলে দামও বাড়বে।”
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, “চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত আলু রফতানি বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। আলু থেকে স্টার্চ উৎপাদন সম্ভব, যা ওষুধ ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত হয়। দেশে পর্যাপ্ত কাঁচামাল থাকা সত্ত্বেও স্টার্চ আমদানি করা হচ্ছে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। ক্ষতিগ্রস্ত আলুচাষিরা আশা করছেন, সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে, রফতানি ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াবে, যাতে ন্যায্য দাম পেয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।


