ঢাকাসোমবার , ৩০ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

ছোঁয়াচে হাম থেকে রেহাই পেতে যা করবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ৩০, ২০২৬ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ । ৪৯ জন

হাম (Measles) একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা না নিলে এটি মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কীভাবে ছড়ায় হাম

হাম ভাইরাস মূলত সংক্রমিত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় নির্গত ক্ষুদ্র ড্রপলেটের মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। অন্য কোনো সুস্থ ব্যক্তি সেই সংক্রামিত বাতাস শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে সহজেই আক্রান্ত হতে পারেন। এছাড়া সংক্রমিত ব্যক্তির ব্যবহৃত সামগ্রী থেকেও ভাইরাস ছড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম রোগের ভাইরাস বাতাসে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে জনবহুল স্থান, স্কুল বা শিশুকেন্দ্রিক পরিবেশে।

হাম রোগের লক্ষণ

হামের লক্ষণ সাধারণত ভাইরাসে সংক্রমণের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে প্রকাশ পেতে শুরু করে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীর মধ্যে সাধারণ সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা যায়। এরপর ধীরে ধীরে লক্ষণগুলো তীব্র আকার ধারণ করে।

প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

১. উচ্চ জ্বর
২. শুকনো কাশি
৩. নাক দিয়ে পানি পড়া
৪. চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও চোখে জ্বালা
৫. শরীরে ছোট ছোট লালচে দানা বা র‍্যাশ
৬. মুখের ভেতরে সাদা ছোট দাগ (কপলিক স্পট)
৭. দুর্বলতা ও ক্লান্তি

রোগটি অগ্রসর হলে র‍্যাশ প্রথমে মুখে দেখা যায় এবং পরে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় রোগী অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে।

প্রতিরোধ ও করণীয়

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ। শিশুদের নির্ধারিত সময়ে এমআর (Measles-Rubella) টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করলে জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য হলেও অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সচেতনতা, টিকাদান এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।