ঢাকারবিবার , ২৯ মার্চ ২০২৬

কেন চৈত্র-বৈশাখে বেশি হয় শিলাবৃষ্টি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ২৯, ২০২৬ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ । ২০ জন

চৈত্রের তীব্র দাবদাহের পর হঠাৎ কালো মেঘ আর ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি—বাংলাদেশের আবহাওয়ার এক পরিচিত চিত্র। বিশেষ করে চৈত্র ও বৈশাখ মাসে এই শিলাবৃষ্টির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এর পেছনে রয়েছে বায়ুমণ্ডলের জটিল বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া।

আবহাওয়াবিদরা জানান, শিলাবৃষ্টির মূল উৎস হলো কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) মেঘ। প্রচণ্ড গরমে ভূপৃষ্ঠ থেকে জলীয় বাষ্প দ্রুত উপরে উঠে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ বা ‘আপড্রাফট’ তৈরি করে। এই বাষ্প বায়ুমণ্ডলের শীতল স্তরে পৌঁছালে অতিশীতল পানির ফোঁটায় পরিণত হয় এবং ধূলিকণাকে কেন্দ্র করে বরফ জমাট বাঁধতে শুরু করে।

বাংলাদেশে মার্চ-এপ্রিল বা চৈত্র-বৈশাখে শিলাবৃষ্টির প্রধান কারণ হিসেবে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, এ সময় স্থলভাগ অত্যন্ত উত্তপ্ত থাকে, যা শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বায়ু মেঘ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জলীয় বাষ্প সরবরাহ করে। তৃতীয়ত, বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে তাপমাত্রা কম থাকায় জলীয় বাষ্প দ্রুত বরফে পরিণত হয়।

মেঘের ভেতরে তৈরি হওয়া ছোট ছোট বরফখণ্ডগুলো ঊর্ধ্বমুখী বায়ুর চাপে বারবার ওপরে-নিচে ঘুরতে থাকে এবং ধীরে ধীরে আকারে বড় হয়। একসময় যখন এই বরফখণ্ডের ওজন বায়ুর চাপের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন তা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে মাটিতে পড়ে-যা আমরা শিলাবৃষ্টি হিসেবে দেখি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিলাবৃষ্টি আকস্মিকভাবে শুরু হয় এবং এতে আম, লিচু ও বোরো ধানের মতো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাই আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখলেই দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার এবং খোলা জায়গায় গবাদিপশু না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।