ঢাকারবিবার , ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

কিডনি সুস্থ রাখতে প্লেটে রাখুন এই খাবারগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ ৩:৩২ অপরাহ্ণ । ৪৭ জন

শরীরের ভেতরে নীরবে কাজ করে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে কিডনি অন্যতম। রক্ত পরিশোধন, শরীর থেকে বর্জ্য অপসারণ এবং তরল ও লবণের ভারসাম্য রক্ষা-সব দায়িত্বই পালন করে এই অঙ্গটি। তবে অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি গ্রহণ এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের অভ্যাসে কিডনির ওপর বাড়ছে অদৃশ্য চাপ।

অনেকেই মনে করেন, শুধু বেশি পানি খেলেই কিডনি সুস্থ থাকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি হলো সঠিক ও সচেতন খাদ্যাভ্যাস। প্রতিদিনের পাতে রাখা কিছু সাধারণ কিন্তু পুষ্টিকর খাবারই কিডনিকে দীর্ঘদিন কার্যক্ষম রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলাদা কোনো জটিল ডায়েট নয়-বরং রান্নাঘরে থাকা সহজ খাবারগুলোর সঠিক ব্যবহারই কিডনির সুস্থতার জন্য যথেষ্ট।

ফুলকপি ও পেঁয়াজ
ফুলকপি কিডনি থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে সহায়ক। এতে থাকা ভিটামিন সি, ফোলেট ও আঁশ শরীরের প্রাকৃতিক পরিশোধন প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে। অন্যদিকে, কম পটাশিয়ামযুক্ত সবজি হওয়ায় পেঁয়াজ কিডনি রোগীদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ। পেঁয়াজে থাকা কোয়ারসেটিন ও অ্যাসিলিন কিডনির ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে।

আপেল ও তরমুজ
কিডনি সুস্থ রাখতে ফলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তরমুজ শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে এবং বর্জ্য দ্রুত বের করে দিতে সহায়তা করে। আপেলে থাকা ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কিডনির প্রদাহ কমানোর পাশাপাশি রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ভেষজ পানীয়
রান্নায় অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট হৃদ্‌যন্ত্রের পাশাপাশি কিডনির সুরক্ষায়ও ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে গ্রিন টি’র অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কিডনির কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।

প্রদাহ কমাতে রসুন ও সামুদ্রিক মাছ
রসুনে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা কিডনি সুস্থ রাখতে অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি স্যামন বা টুনার মতো ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমিয়ে কিডনির দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় সাহায্য করে।

সচেতন খাদ্যাভ্যাসই মূল চাবিকাঠি
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি সুস্থ রাখতে আলাদা কোনো কঠোর ডায়েটের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের খাবারে সঠিক উপাদান নির্বাচন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই কিডনিকে দীর্ঘদিন নীরবে কিন্তু শক্তভাবে কাজ করার সক্ষমতা দেয়।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন