চোখ, মুখ, নাকসহ শরীরের কিছু অঙ্গ রয়েছে যেগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সহজেই জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক সময় অজান্তেই অপরিষ্কার হাতে এসব জায়গায় স্পর্শ করা হয়, যা বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অকারণে এসব অঙ্গে হাত না দেওয়াই সুস্থ থাকার অন্যতম প্রধান উপায়।
চোখ
চোখ শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঙ্গগুলোর একটি। অপরিষ্কার হাতে চোখে স্পর্শ করলে সহজেই ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, পানি পড়া এবং সংক্রমণজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বারবার চোখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
মুখ
মুখের মাধ্যমে খাবার ও বিভিন্ন উপাদান শরীরে প্রবেশ করে, তাই এটি সংক্রমণের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অপরিষ্কার হাতে মুখে হাত দিলে জীবাণু সহজেই শরীরে ঢুকে পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া, বমি বা অন্যান্য সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই খাবারের আগে ও পরে হাত পরিষ্কার রাখা জরুরি।
নাক
নাকের ভেতরে স্বাভাবিকভাবেই কিছু উপকারী জীবাণু থাকে, যা শরীরকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু অপরিষ্কার হাতে নাক খোঁটার অভ্যাস এই ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে। এতে বাইরে থেকে আসা ক্ষতিকর জীবাণু সহজেই শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
পায়ুদ্বার
পায়ুদ্বার শরীরের এমন একটি অংশ যেখানে প্রচুর জীবাণু থাকে। এখানে হাত দিলে এবং পরে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে সেই জীবাণু মুখ বা খাবারের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে যেতে পারে। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নাভি
নাভি ছোট হলেও এটি জীবাণু জমে থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে উপকারী ও ক্ষতিকর দুই ধরনের জীবাণুই থাকতে পারে। বারবার হাত দিলে এই জীবাণু শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং অপ্রয়োজনে শরীরের সংবেদনশীল অঙ্গে হাত না দেওয়া সুস্থ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে।


