ঢাকাসোমবার , ৯ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

প্রবাসে ভোটার নিবন্ধন:

১৪ দেশে প্রায় ১৯ হাজার বাংলাদেশিকে এনআইডি দিয়েছে ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ৯, ২০২৬ ৩:৩১ অপরাহ্ণ । ৫১ জন

প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা নিশ্চিত করতে বিদেশে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ কার্যক্রমের আওতায় ইতোমধ্যে ১৪টি দেশে প্রায় ১৯ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে অধিকাংশকে স্মার্ট এনআইডি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগের তৈরি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে ৩ মার্চ পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ইসির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত ১৪টি দেশে মোট ১৮ হাজার ৮৬৫ জন প্রবাসী ভোটার হয়েছেন। তাদের সবাইকে স্মার্ট এনআইডি কার্ড দেওয়া হবে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৮ হাজার ৮৫৩টি এনআইডি বিতরণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই, সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম, ইতালির রোম ও মিলান, কুয়েত সিটি, কাতারের দোহা, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি, কানাডার অটোয়া ও টরন্টো, জাপানের টোকিও, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস, মালদ্বীপের মালে, ওমানের মাসকাট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াসহ মোট ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এ পর্যন্ত ৮২ হাজার ৯৭৬ জন প্রবাসী ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তদন্ত শেষে ১৮ হাজার ৪৫৪ জনের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ৩৯ হাজার ৭ জনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এখনও তদন্তাধীন রয়েছে ৩ হাজার ৬৬ জনের আবেদন।

আবেদন অনুমোদনের পর এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ৮৬৫টি এনআইডি প্রিন্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৮৫৩টি সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও ৫ হাজার ৩৯৮টি এনআইডি প্রিন্টের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

দেশভিত্তিক আবেদনের হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। দেশটি থেকে আবেদন করেছেন ২৩ হাজার ৭৬ জন, যার মধ্যে ৯ হাজার ১০টি এনআইডি প্রিন্ট করা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখানে ১৫ হাজার ৩৪৯টি আবেদন জমা পড়েছে এবং তদন্ত শেষে ৪ হাজার ২৪৪টি এনআইডি প্রিন্ট করে দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে—মাত্র ১১৫টি। সেখানে এখনো কোনো এনআইডি প্রিন্ট করা হয়নি।

নির্বাচন কমিশনের প্রণীত আদর্শ পরিচালনা পদ্ধতি (এসওপি) অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তারা অবস্থানরত দেশ থেকেই ভোটার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া দেশের মতোই প্রবাসেও ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের আগাম নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এনআইডি নিবন্ধনের জন্য অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্র, পাসপোর্টের কপি, অনলাইন যাচাইকৃত জন্ম নিবন্ধন সনদ, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, পিতা-মাতার এনআইডি বা সংশ্লিষ্ট দলিলসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, নিকাহনামা, নাগরিকত্ব সনদ ও ঠিকানাসংবলিত ইউটিলিটি বিলও জমা দিতে হতে পারে।

এসওপিতে আরও বলা হয়েছে, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্ত করবেন। কোনো প্রয়োজনীয় দলিল জমা দিতে না পারলে বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রতিনিধির মাধ্যমে তা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।