
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। মৃতদের অধিকাংশই শিশু।
বুধবার (২৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৭ জন। একই সময়ে পরীক্ষায় ১৩৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৪১ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ৯০৪ জনের শরীরে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ জনের। এদের মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৯৯ হাজারের বেশি ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম বা হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে বিশ্বে ১৬৫টি দেশে মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার হাম বা উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাম সংক্রমণের দিক থেকে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে ভারত, যেখানে ছয় মাসে ২৬ হাজার ৬০৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর রয়েছে ইয়েমেন, মেক্সিকো, পাকিস্তান, ক্যামেরুন, কাজাখস্তান, গুয়েতেমালা, অ্যাঙ্গোলা ও সুদান।
দেশে চলতি বছরের শুরু থেকে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে নিয়মিত হামের তথ্য প্রকাশ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রাদুর্ভাবের জন্য অতীতে টিকাদান কার্যক্রমে অবহেলাকে দায়ী করা হয়েছে।