
সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ জনে। একই সময়ে নতুন করে ৯৯ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত হামের দৈনিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পাঁচ মাস বয়সী এবং অন্যজন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ছয় মাস বয়সী। দুজনই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০১ জনে। এর মধ্যে সিলেটে ২৯৮, হবিগঞ্জে ১২৩, মৌলভীবাজারে ১২৭ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৩ জন রয়েছেন। নিশ্চিত আক্রান্তদের মধ্যে হবিগঞ্জের দুজনের রুবেলাও রয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৯৯ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৫০ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৯ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে একজন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে দুজন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঁচজন ভর্তি হয়েছেন।
সব মিলিয়ে বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৮৬ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪৮ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭০ জন এবং রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২৯ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১১ জনসহ অন্যান্য হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জেলাভিত্তিক হিসাবে, সন্দেহজনক হামে সিলেটে ৪৩ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন, মৌলভীবাজারে ১২ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে নিশ্চিত হামে সিলেটে চারজন, মৌলভীবাজারে একজন এবং সুনামগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হামে মৃত্যুর হিসাব একত্র করলে সিলেটে মোট ৪৭ জন, হবিগঞ্জে ১৬, মৌলভীবাজারে ১৩ এবং সুনামগঞ্জে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি বছর সিলেট বিভাগে হাম ও এর উপসর্গে ১৩০ জনের মৃত্যু হলো।