
রাজধানী ঢাকায় আজ সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় বাড়তে থাকে জনদুর্ভোগ। কোথাও দেখা দিয়েছে যানজট, আবার কোথাও গণপরিবহনের সংকট। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।
সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত মোহাম্মদপুর, ঝিগাতলা, ট্যানারী মোড়, ধানমন্ডি, শাহবাগ, গাবতলী ও আজিমপুর এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। বাস ও রিকশার সংকট চোখে পড়েছে। অনেককেই ছাতা মাথায় দিয়ে কিংবা পলিথিনে নিজেকে মুড়ে হাঁটতে দেখা গেছে।
ঝিগাতলার নতুন রাস্তার বাসিন্দা রাকিব হোসেন বলেন, “বর্ষার শেষ সময়, বৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ এমন বৃষ্টিতে বিপদে পড়তে হয়। আজ অফিসে দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
মোহাম্মদপুর থেকে আসা কলেজ শিক্ষার্থী মুত্তাকিম আল হাসান বলেন, “সকাল ৯টার ক্লাস মিস করেছি। এখন যাচ্ছি দ্বিতীয় পিরিয়ড ধরতে। রিকশা ভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে, তাও রিকশা পাচ্ছি না।”
নওগাঁ থেকে বেড়াতে আসা লাইলী আনজুমান জানান, “তিন দিন থাকার পর আজ সকালে ফিরব ভেবেছিলাম। কিন্তু এক ঘণ্টা বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো রিকশা বা সিএনজি পাইনি।”
সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, বৃষ্টি শুরু হলেই রিকশা ও সিএনজি চালকরা ভাড়া বাড়িয়ে দেন। কেউ কেউ যাত্রী তুলতেও চান না। তাদের দাবি, কর্তৃপক্ষ চাইলে এ অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নগরজীবনে দুর্ভোগও সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
নগরবাসীর মতে, রাজধানীতে বৃষ্টি হলেই যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। গণপরিবহনের সংকট, রিকশা ভাড়ার বাড়াবাড়ি আর যানজটের কারণে মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কিন্তু সমস্যাটি সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেই বললেই চলে।