
রংপুরের বাজারে নিত্যপণ্যের দামে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে মুরগি ও কাঁচামরিচের দাম। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রংপুর নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের তুলনায় কমে এখন কেজিপ্রতি ১৫০-১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি সোনালী মুরগির দাম ২৮০-৩০০ টাকা থেকে নেমে ২৫০-২৭০ টাকায় এসেছে। দেশি মুরগি আগের মতোই ৫০০-৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বিক্রেতাদের মতে, সরবরাহ ভালো থাকায় মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।
কাঁচামরিচের দামও বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত সপ্তাহে যেখানে কেজিপ্রতি ১১০-১২০ টাকা ছিল, এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬০-৭০ টাকায়। তবে পেঁয়াজ ও পাতা পেঁয়াজের দাম অপরিবর্তিত থেকে প্রতি কেজি যথাক্রমে ৯০-১০০ টাকা এবং ৫০-৬০ টাকা রয়েছে। সবজির বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। কিছু সবজির দাম কমলেও কিছু সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে এবং অল্প কয়েকটির দাম বেড়েছে। টমেটো বর্তমানে কেজিপ্রতি ৮০-৯০ টাকা (আগে ছিল ১০০-১২০), গাজর ৫৫-৬০ টাকা (আগে ৭০-৮০), ফুলকপি ৩৫-৪০ টাকা, গোল বেগুন ৫৫-৬০ টাকা (আগে ৮০-১০০) এবং শিম ৫৫-৬০ টাকা (আগে ৭০-৮০) দরে পাওয়া যাচ্ছে। তবে ঢ্যাঁড়সের দাম বেড়ে গেছে; এখন কেজিপ্রতি ৭০-৮০ টাকা, যেখানে গত সপ্তাহে ছিল ৫০-৬০ টাকা। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, যেসব সবজির মৌসুম শেষের দিকে, সেগুলোর সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল। ডিমের হালি আগের মতোই ৩৮-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুর দাম বিভিন্ন জাতভেদে ২২ থেকে ৪৫ টাকা কেজির মধ্যে রয়েছে। সয়াবিন তেলের বোতলজাত দাম ১৮৫-১৯০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৮০-২০০ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। ডালের বাজারেও তেমন পরিবর্তন হয়নি—মসুর ডাল (চিকন) ১৫০-১৬০, মাঝারি ১০০-১১০, মুগডাল ১৬০-১৮০, বুটের ডাল ১২০-১৩০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। চিনি ১০০-১১০ টাকা, আটা ৪৫-৫৫ টাকা এবং ময়দা ৬৫-৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজারেও স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০, স্বর্ণা (চিকন) ৫৮-৬০, বিআর২৮ ৭০-৭৫, বিআর২৯ ৬০-৬৫, মিনিকেট ৮২-৮৫ এবং নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন নেই। আকারভেদে রুই মাছ ৩০০-৩৮০, টেংরা ৪০০-৫৬০, মৃগেল ২২০-২৫০, কারপু ২৫০-২৬০, পাঙাশ ১৫০-২০০, কাতল ৩০০-৫০০, শিং ৩০০-৪০০ এবং গচি মাছ ৮০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, রংপুরের বাজারে মুরগি ও কাঁচামরিচের দাম কমলেও অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।