ঢাকাবুধবার , ৪ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের খাদ্য সহায়তায় অনিয়ম-জেলেরা ক্ষিপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ৪, ২০২৬ ১১:০০ পূর্বাহ্ণ । ২৫ জন

মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি খাদ্য সহায়তা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ভেদরগঞ্জ উপজেলা-এ। অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যেক জেলের জন্য ৮০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও অনেকেই পেয়েছেন মাত্র ৭০–৭২ কেজি।

ঘটনাটি মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে সখিপুর থানার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বিতরণকালে ঘটে। স্থানীয় জেলেরা অভিযোগ করেছেন, ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সেকান্দার খান দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের আগেই নিজস্ব লোকজন নিয়ে চাল বিতরণ শুরু করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী ওজন করে দেওয়া হয়নি, ফলে অনেক জেলেই নির্ধারিত পরিমাণের কম চাল পেয়েছেন।

ভুক্তভোগী জেলে রকিব মাঝি বলেন, “আমার ৮০ কেজি চাল পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দেওয়া হয়েছে ৭০ কেজি। আমরা গরিব মানুষ, কিছু বললেও লাভ নেই।” মালবাজার এলাকার ফয়সাল হোসেনও জানান, বাবার নামে বরাদ্দ চাল নিতে গিয়ে দেখেছেন মাত্র ৭২ কেজি দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকরা আসার পর পুনরায় ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ শুরু হয়।

উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে. এম. রাফসান রাব্বি এবং সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল ইমরান ঘটনাস্থলে গিয়ে অবশিষ্ট জেলেদের মধ্যে নির্ধারিত পরিমাণ চাল বিতরণ করেন।

প্যানেল চেয়ারম্যান সেকান্দার খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি সঠিকভাবে চাল বিতরণ করেছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান সরকার জানান, বস্তাভেদে দুই-তিন কেজি চাল কম থাকতে পারে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক বলেন, “অনিয়মের সংবাদ পাওয়ার পর কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। তারা গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় জেলেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, “এই চালই আমাদের দুই মাসের পরিবারের একমাত্র খাদ্যভরসা। সেখানে অনিয়ম হলে কর্মসূচির উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।”