
রমজান উপলক্ষে মাদারীপুরে বেড়েছে মৌসুমি ফলের চাহিদা। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় পাইকারি আড়তগুলোতে জমজমাট কেনাবেচা চলছে। বিশেষ করে আনারস, তরমুজ ও ফুটিসহ বিভিন্ন ফল কিনতে দূরদূরান্ত থেকে পাইকাররা ভিড় করছেন।
রোববার (৮ মার্চ) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা মাদারীপুরের মোস্তফাপুর ফলের আড়তে সকাল থেকেই পাইকারদের ভিড়। যশোর, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ, বরিশাল ও চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এখানে ফল কিনতে আসছেন।
আড়তের ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে প্রকারভেদে প্রতিপিস তরমুজ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। প্রতিটি আনারস বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৫০ টাকায় এবং ফুটি প্রতিপিস ৩৫ থেকে ৫০ টাকায় কিনে নিচ্ছেন পাইকাররা। এছাড়া পেয়ারা, আপেল, খেজুর, আঙ্গুর, মালটা ও কমলাসহ বিভিন্ন ফলের দামও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে অবস্থানের কারণে মোস্তফাপুর ফলের আড়ত দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখানে প্রায় অর্ধশত পাইকারি আড়তে প্রতিদিন কোটি টাকার ফল কেনাবেচা হয়। পাইকারদের আড়ত থেকে ফল কিনতে আড়তদারদের ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন দিতে হয়।
শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থেকে আসা পাইকার মো. আনোয়ার বাবুর্চী বলেন, “আমি প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে এই আড়ত থেকে পাইকারি ফল কিনি। এখানে তুলনামূলক কম দামে ফল পাওয়া যায়, যা নিজ এলাকায় নিয়ে গিয়ে ভালোভাবে বিক্রি করা যায়।”
নড়াইল থেকে আসা পাইকার জলিল ফকির বলেন, “এই আড়তে যাতায়াত সহজ হওয়ায় আমরা নিয়মিত এখানে আসি। এখানে টাটকা ফল পাওয়া যায়।”
আড়তদার আলিম মাতুব্বর বলেন, রমজান মাসে ফলের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে আড়তে কেনাবেচা শুরু হয় এবং প্রতিদিনই ভালো বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব জানান, বাজারে ফলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ অতিরিক্ত দাম নিলে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।