টানা ভারি বর্ষণে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ধলিয়া খালের পাড়ে ভাঙন এতটাই তীব্র যে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, ফলের বাগান ও চলাচলের রাস্তা দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে পৌরসভার চরপাড়া এলাকায় নদীভাঙনের ভয়াবহ চিত্র চোখে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রতিদিনই খালের পাড় গড়াগড়ি খেয়ে ধসে পড়ছে। রাস্তা ও গাছপালা পানিতে ভেঙে পড়ছে চোখের সামনেই।
জীবন ও সম্পদ হারানোর আতঙ্ক
মন্দিরপাড়ার বাসিন্দা রিপ্রুচাই মারমা বলেন, “গত বছর আমাদের বাড়ির একাংশ ভেঙে যায়। এবার গোয়ালঘরও নদীতে চলে গেছে। এখন একমাত্র বসতঘরটিও হুমকির মুখে।”
আরেক বাসিন্দা পাইচাইং মারমা বলেন, “এভাবে যদি ভাঙন চলতে থাকে, তাহলে আমাদের আর কোথাও থাকার জায়গা থাকবে না।”
বাবুপাড়া এলাকার বৌদ্ধমন্দির পাড়ার একমাত্র চলাচলের রাস্তা গত বর্ষা মৌসুমেই ভেঙে যায়। এলাকাবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে চলাচলের উপযোগী করা হলেও পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রশাসনের সতর্কতা ও আশ্বাস
ভূমিধস, বন্যা ও নদীভাঙনের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষদের সরে যাওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবারের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তাদের সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করা হবে।”
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি দ্রুত ব্যবস্থা
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই ভাঙনের ভয় নিয়ে থাকতে হয়। এবার ভাঙনের মাত্রা আরও ভয়াবহ। তারা দ্রুত বাঁধ নির্মাণ ও নদীপাড় সংরক্ষণে স্থায়ী উদ্যোগ চাচ্ছেন।


