
প্রান্তিক পর্যায়ের ভঙ্গুর চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণে দেশে হাম পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হওয়ায় বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নত না করা গেলে সংকট আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামমুক্ত ঘোষণার লক্ষ্য থাকলেও এ বছরের চিত্র দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে এনেছে। এর বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। কোথাও শয্যা সংকট, কোথাও আবার যথাযথ চিকিৎসার অভাবে জটিল অবস্থার মুখে পড়ছে আক্রান্ত শিশুরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, হামে এত মৃত্যু বিশ্বে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভঙ্গুর চিত্র তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, পরিবর্তনের পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। তাই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাভিত্তিক শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কাজ শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে ‘ওয়ানস্টপ মেডিকেল সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৩০ ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ হাজারের বেশি, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।