
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক ও আশপাশের কয়েকটি প্রদেশে টানা ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত দুই দিন ধরে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আটকে পড়াদের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ জাতীয় টেবিল টেনিস দলের পাঁচ খেলোয়াড় ও এক কোচ রয়েছেন। ফ্লাইট বাতিল ও দীর্ঘ বিলম্বের কারণে তাদের দেশে ফিরতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
তবে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে ধীরে ধীরে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে। বন্যার মধ্যেও সুবর্ণভূমি ও ডন মুয়াং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু রয়েছে। তবে অনেক ফ্লাইট ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় থাইল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত বন্যায় আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে মৃত্যুর ঘটনা বেশি বলে জানিয়েছে থাইল্যান্ডের দুর্যোগ প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ (ডিডিপিএম)।
ডিডিপিএমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ২৭টি প্রদেশে বন্যায় পাঁচ লাখের বেশি পরিবার এবং প্রায় ১৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ৪৮ ঘণ্টার টানা ভারী বৃষ্টিতে খালগুলোর পানি বেড়ে সড়ক ডুবে যায়। পরিস্থিতির কারণে গত শনিবার ব্যাংকককে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংককের খালগুলোয় পানির উচ্চতা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিডিপিএম। তবে শহরের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক বাসিন্দাকে হাঁটু থেকে ঊরুসমান পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
বন্যার কারণে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে সোমবার সকালে সড়ক ও গণপরিবহনে মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম ছিল। পানি জমে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় অনেক বিদেশি পর্যটকও হোটেলে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন।
বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা ও ভ্রমণের জন্য থাইল্যান্ডে যাওয়া অনেক বাংলাদেশিও ব্যাংককের বিভিন্ন হোটেল ও বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন।
ব্যাংককে আটকে পড়া বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. নাহিদুজ্জামান নাহিদ জানান, গত দুই দিন ধরে অনেক যাত্রী সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে আটকা রয়েছেন। রোববার থাই এয়ারওয়েজের টিজি ৩০১ ফ্লাইটটি বাতিল করা হলে বাংলাদেশিসহ দুই শতাধিক যাত্রী বিমানবন্দরে রাত কাটান। সোমবার ফ্লাইটটি পুনঃনির্ধারণ করা হলেও স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা পর্যন্ত যাত্রীদের আর কোনো আপডেট জানানো হয়নি বলে জানান তিনি।
এদিকে, জাপানের আইচি-নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়ে দেশে ফেরার পথে থাইল্যান্ডে আটকা পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় টেবিল টেনিস দলের সদস্যরা। বন্যার কারণে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পাঁচ খেলোয়াড় ও এক কোচকে দুই দিন ধরে সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
আটকে পড়া খেলোয়াড়রা হলেন রামহিমলিয়ন বম, ইমরুল কায়েস ইমন, সোনম সুলতানা সোমা, নওরিন সুলতানা মাহি ও সামান্তা হোসেন তুসি। তাদের সঙ্গে রয়েছেন দলের কোচ ও ফেডারেশনের সদস্য মো. মোহসিনুল আলম ঝিনু। সোমবার সকালে তাদের একটি ফ্লাইটে ওঠার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটিও সম্ভব হয়নি।
থাইল্যান্ডের পর্যটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে দুই বিমানবন্দরে যাতায়াতের সড়কে যানজট ও বিলম্ব হতে পারে। তাই যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার পাশাপাশি যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-ব্যাংকক-ঢাকা রুটে বর্তমানে প্রতিদিন একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে তাদের কোনো ফ্লাইট বাতিল হয়নি। তবে সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।