ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৬ জুলাই ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান দেশগুলো: গড় আইকিউ র‌্যাঙ্কিং ২০২৫

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৮ অগাস্ট ২০২৫, ১২:১৩ বিকাল

Link Copied!

শহরের এক প্রান্তে প্রযুক্তির আলোয় ঝলমল করছে ডিজিটাল বোর্ড, যেখানে ভেসে উঠছে এক আশ্চর্য পরিসংখ্যান—বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান দেশগুলোর তালিকা। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, এবং গবেষণার ফলাফলকে মাপার বিভিন্ন সূচক তৈরি হয়েছে। তবে মানুষের গড় IQ (ইন্টেলিজেন্স কোশেন্ট) সবসময়ই আলোচনায় বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক IQ টেস্টের ফলাফল অনুযায়ী তৈরি হয়েছে নতুন র‌্যাঙ্কিং, যেখানে দেখা যাচ্ছে কোন দেশ সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

এই প্রতিবেদনে আমরা শুধু সংখ্যাগুলো নয়, বরং প্রতিটি অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থা, সংস্কৃতি, গবেষণা, এবং বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব কেন এই দেশগুলো শীর্ষে বা নিচে অবস্থান করছে।

চীন: শীর্ষে অবস্থান
২০২৫ সালের তালিকায় চীন ১০৭.১৯ গড় আইকিউ নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। বিশাল জনসংখ্যার দেশ হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষা এবং গবেষণায় তাদের নিরবচ্ছিন্ন বিনিয়োগ, টেকনোলজিতে নেতৃত্ব, এবং কঠোর পরিশ্রমী সংস্কৃতি তাদেরকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অগ্রগতি এবং গণিত ও বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের সাফল্য বিশ্বজুড়ে আলোচিত।

দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান: এশিয়ার জ্ঞানতরঙ্গ
দক্ষিণ কোরিয়া (১০৬.৪৩) ও জাপান (১০৬.১১) যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে। ছোট দেশ হলেও তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কঠোর, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অভূতপূর্ব, এবং সাংস্কৃতিকভাবে জ্ঞানচর্চার প্রতি অঙ্গীকার অসাধারণ। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষার্থীরা বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেয়, আর জাপান তাদের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবনে সবসময়ই শীর্ষে থাকে।

ইরান ও সিঙ্গাপুর: মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদাহরণ
চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইরান (১০৬.৩৪)। বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তি এবং শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকার এই ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর (১০৫.১৪) একটি ছোট শহর-রাষ্ট্র হয়েও পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে। বিশ্বের সেরা শিক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির কারণে তারা প্রায়শই “এশিয়ার জ্ঞানকেন্দ্র” হিসেবে পরিচিত।

রাশিয়া ও মঙ্গোলিয়া: ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, মানসিক শক্তি
ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে রাশিয়া (১০৩.১৬), যাদের দীর্ঘকালীন গবেষণা ও বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাস রয়েছে। মঙ্গোলিয়া (১০২.৬৭) সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে, যা অনেককে অবাক করতে পারে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক বিনিয়োগের কারণে মঙ্গোলিয়ার গড় বুদ্ধিমত্তা ক্রমশ বেড়েছে।

অস্ট্রেলিয়া ও স্পেন: পশ্চিমা বিশ্বের নেতৃত্ব
অষ্টম স্থানে অস্ট্রেলিয়া (১০২.৫৭) এবং নবম স্থানে স্পেন (১০২.৫৩)। অস্ট্রেলিয়া গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। অন্যদিকে স্পেন, ঐতিহ্যগত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উৎকর্ষতার কারণে উঁচু অবস্থানে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র: ৩০তম স্থানে
যুক্তরাষ্ট্র (৯৯.৫৭) বিশ্বের প্রযুক্তি ও গবেষণার কেন্দ্র হলেও তালিকায় ৩০তম স্থানে অবস্থান করছে। এর কারণ হলো বিশাল জনসংখ্যা এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ সামাজিক অবস্থা। উচ্চশিক্ষায় তারা এখনো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হলেও গড় হিসেবে তুলনামূলকভাবে নিচে অবস্থান করছে।

ভারত: মধ্যম অবস্থান
ভারত (৯৯.০১) ৪৪তম স্থানে রয়েছে। বিপুল জনসংখ্যার দেশে শিক্ষার মান সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে প্রযুক্তি খাতে ভারতীয়দের সাফল্য, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দক্ষতা এবং ক্রমবর্ধমান শিক্ষা বিনিয়োগ ভবিষ্যতে ভারতের অবস্থান উন্নত করতে পারে।

বাংলাদেশ: নিচের দিকে
তালিকার ৭৪তম স্থানে বাংলাদেশ (৯৬.৪৬) রয়েছে। যদিও বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমশ উন্নত হচ্ছে, তবে এখনো মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব রয়েছে। তবে জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং শিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

রোমানিয়া: শেষ প্রান্তে
৭৫তম স্থানে রয়েছে রোমানিয়া (৯৬.৩১)। বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

সার্বিক বিশ্লেষণ
এই তালিকায় সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো এশীয় দেশগুলোর আধিপত্য। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইরান, সিঙ্গাপুর এবং মঙ্গোলিয়া শীর্ষ দশের ভেতরে জায়গা করে নিয়েছে। এর কারণ তাদের শক্তিশালী শিক্ষা ব্যবস্থা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপর নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগ এবং সংস্কৃতিগতভাবে জ্ঞানচর্চাকে প্রাধান্য দেওয়া।

অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোর অনেকেই তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে, যেমন জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি প্রভৃতি। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক নিচে থাকা এবং ভারতের মাঝামাঝি অবস্থান দেখায় যে জনসংখ্যার বিশালতা গড় আইকিউয়ের উপর বড় প্রভাব ফেলে।

আফ্রিকান ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ তালিকার একেবারে নিচে রয়েছে, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতির সীমাবদ্ধতাকে প্রতিফলিত করে।

বুদ্ধিমত্তা শুধু সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। কোনো দেশের গড় আইকিউ তার শিক্ষার মান, গবেষণার অগ্রগতি এবং সামাজিক কাঠামোর প্রতিফলন। তবে ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকেও বিবেচনা করতে হবে। তবুও, এই তালিকা আমাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—শিক্ষা ও গবেষণায় বিনিয়োগই ভবিষ্যতের বুদ্ধিমত্তার প্রকৃত চালিকা শক্তি।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

Front-of-Package Labelling to Warn About Ultra-Processed Food Risks

অতিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করবে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং

কানাডার সঙ্গে প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

সন্ধ্যার মধ্যে ৭ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

লঘুচাপের প্রভাবে সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টি, এরপর আরও বাড়বে বর্ষণ

বারবার পেটের সমস্যা? হতে পারে আইবিএসের লক্ষণ

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে গভীর ঘুমের বৈজ্ঞানিক রহস্য উন্মোচন

vivo Y500 Goes on Sale with Exclusive Offers

আকর্ষণীয় অফারের সাথে যাত্রা শুরু করলো ভিভো ওয়াই৫০০

MetLife Bangladesh recognizes best insurance employees in financial inclusion and customer service

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও গ্রাহকসেবায় সেরা বীমা কর্মীদের স্বীকৃতি দিল মেটলাইফ বাংলাদেশ

ঢাকায় আজ বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, সামান্য বাড়তে পারে তাপমাত্রা