
বাংলাদেশ ভয়াবহভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এ বিষয়টি গণমাধ্যমে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, “আমরা ক্লাইমেট চেঞ্জে ভয়ংকরভাবে ভুগছি। কিন্তু সেই স্টোরিগুলো আমাদের পত্রিকার ভেতরের পাতার নিচে চাপা পড়ে থাকে।”
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ভবনে তিন দিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। “নেভিগেটিং ক্লাইমেট ফাইনান্স: মিডিয়া রিপোর্টিং” শীর্ষক এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে পিকেএসএফ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৬০ জন সাংবাদিক অংশ নেন। কর্মশালার উদ্বোধন করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
শফিকুল আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শুধু পরিবেশ নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও তৈরি হয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “১৯৮৭-৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যা তৎকালীন জেনারেল এরশাদের শাসন ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট করে দিয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের সমাজে আঞ্চলিক টেনশন ও সমাজিক সংকট তৈরি করে।”
তিনি বলেন, “ভবদহের মতো জলাবদ্ধতা যখন ভয়াবহ হয়, তখন পত্রিকাগুলোতে কভারেজ আসে। কিন্তু মৌসুম শেষ হলে বিষয়টি গুরুত্ব হারায়। অথচ ভবদহ জলবায়ু পরিবর্তনের বড় উদাহরণ। বাংলাদেশে এ ধরনের হাজারো ঘটনা রয়েছে, যেগুলো গণমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনায় আসে না।”
প্রেস সচিব উল্লেখ করেন, “সিলেটে পানির সমস্যা, উপকূলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ফার্টিলিটি রেটের পরিবর্তন-সবকিছুর সঙ্গেই জলবায়ু পরিবর্তনের যোগ রয়েছে। কিন্তু আমরা এগুলো বাইরে পড়ছি না, ভেতরে ভেতরে থেকে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “এগুলো নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা হচ্ছে না। অথচ সঠিকভাবে কভারেজ হলে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আনা সম্ভব। আজকের এই কর্মশালার উদ্দেশ্য হলো সাংবাদিকদের আরও দক্ষ করে তোলা, যাতে তারা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বড় কেস স্টাডি তৈরি করতে পারে এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে সামনে আনতে পারে।”