ঢাকারবিবার , ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

বর্ষার অতিরিক্ত পানিতে তিস্তার দুই পারের ফসলের ক্ষতি, বাস্তুচ্যুত ৯০ হাজার মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ১১, ২০২৬ ৩:২৬ অপরাহ্ণ । ১৮২ জন

তিস্তার উজানের ভারতীয় অংশে একাধিক বাঁধ ও ব্যারাজ নির্মাণের কারণে বাংলাদেশের তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ ৮০–৯০ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকের সেচ খরচ বেড়ে ৩০০ শতাংশ, আর বর্ষায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এসব প্রভাবে ২০২০ সালে দুই পারের প্রায় ৯০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এ তথ্য উঠে এসেছে ‘তিস্তা নদী: পরিবেশগত সংকট ও পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধে। শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন ও বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল নেটওয়ার্ক (বাপা-বেন) আয়োজিত জাতীয় পরিবেশ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে এই প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিভারাইন পিপলের ট্রাস্টি ও আরডিআরএসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. নুরুননবী। গবেষণা পরামর্শক ছিলেন আরডিআরএস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইমরুল কায়েস মনিরুজ্জামান।

নুরুন্নবী জানান, তিস্তার দুই পারের আনুমানিক পাঁচ লাখ মানুষ নদীর ওপর নির্ভরশীল। ভারতের ৯টি বাঁধ ও ২টি ব্যারাজ নির্মাণের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ অংশে মাত্র ১ হাজার ২০০ কিউসেক পানি আসে, যা চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ। এতে কৃষি উৎপাদন কমছে, পলিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় মাটির জৈবিক গুণও হ্রাস পাচ্ছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বাঁধের প্রভাবে ১২ হাজার হেক্টর হাওর, বাঁওড় ও বিল শুকিয়ে গেছে, ৬০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়েছে। ১৯৭০ দশকে তিস্তায় ১৪০ প্রজাতির মাছ থাকলেও ২০২৩ সালে তা কমে মাত্র ৩৪ প্রজাতি। নুরুন্নবী মন্তব্য করেন, “আমরা যখন প্রকৃতির গলা টিপে ধরে উন্নয়ন করি, প্রকৃতির সব দিক ভেবে চলি না। মানুষকে বিচ্ছিন্নভাবে উন্নয়নের অংশীদার মনে করি।”

সম্মেলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউল্যাবের অধ্যাপক শাহনাজ হুসনে চৌধুরী ‘ম্যানেজমেন্ট অব ওয়াটার রিসোর্স’ বিষয়ে প্রেজেন্টেশন দেন। তিনি পঞ্চগড়ে ভিতরগড় প্রাচীন সভ্যতার পানির ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মিহির বিশ্বাস সভাপতিত্বে বলেন, নদী মানবসভ্যতা গড়ে তুলতে ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে, কিন্তু আজ তা শুকিয়ে মরছে। নদী বাঁচাতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।