ঢাকাশনিবার , ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

প্লাস্টিক খেয়ে ফেলছে ব্যাকটেরিয়া-ছত্রাক, দূষণ মোকাবিলায় নতুন আশার আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২৪, ২০২৬ ৪:০৭ অপরাহ্ণ । ১৮৬ জন

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান প্লাস্টিক দূষণ এখন আর শুধু পরিবেশগত সংকট নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় মানুষের রক্ত, ফুসফুস এমনকি মস্তিষ্কেও ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই বিজ্ঞানীদের এক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

গবেষকরা এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক শনাক্ত করেছেন, যারা প্লাস্টিককে ভেঙে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে সক্ষম। বিজ্ঞানীদের মতে, এসব ক্ষুদ্র জীব ভবিষ্যতে প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

২০১৬ সালে জাপানের বিজ্ঞানীরা ‘আইডিওনেলা সাকাইয়েনসিস’ (Ideonella sakaiensis) নামের একটি ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পান, যা পিইটি (PET) প্লাস্টিক-বিশেষ করে প্লাস্টিক বোতলে ব্যবহৃত উপাদান-ভাঙতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়া দুটি বিশেষ এনজাইম তৈরি করে, যা প্লাস্টিকের দীর্ঘ পলিমার চেইন ভেঙে সাধারণ রাসায়নিক উপাদানে পরিণত করে। পরবর্তীতে সেগুলো ব্যাকটেরিয়ার শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

শুধু ব্যাকটেরিয়াই নয়, গবেষণায় দেখা গেছে কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির ছত্রাকও পলিথিন ও পলিউরেথেনের মতো কঠিন প্লাস্টিক ভাঙতে সক্ষম। বিশেষ করে উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে এসব ছত্রাকের প্লাস্টিক ধ্বংসের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি। প্রকৃতির এই ক্ষুদ্র জীবগুলোর প্লাস্টিক ‘গ্রাস’ করার ক্ষমতা পরিবেশ বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বিশ্বে উৎপাদিত মোট প্লাস্টিকের মাত্র ৯ থেকে ১০ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হয়। বাকি বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক জমে থাকে ল্যান্ডফিল, নদী ও সমুদ্রে। প্লাস্টিক ভাঙতে সক্ষম এসব জীব ব্যবহার করা গেলে সমুদ্রে জমে থাকা বর্জ্য ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব হবে, প্রচলিত রিসাইক্লিংয়ের তুলনায় কম শক্তি খরচ হবে এবং পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরির ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি এখনই মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকগুলো তুলনামূলক ধীরগতিতে প্লাস্টিক ভাঙে এবং সব ধরনের প্লাস্টিকের ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর নয়। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করতে গবেষকরা বর্তমানে ল্যাবরেটরিতে জেনেটিকভাবে উন্নত এনজাইম তৈরির ওপর কাজ করছেন, যাতে ভবিষ্যতে শিল্পকারখানায় বাণিজ্যিকভাবে এটি ব্যবহার করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের আশা, আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক দূষণ সমস্যার একটি টেকসই ও কার্যকর সমাধান এনে দিতে পারে।