
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, পোল্ট্রি খাতে ভুট্টা ও সয়াবিন আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হলে এই দুটি ফসলকে কৃষি খাতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, এটি কেবল খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে না, বরং দেশীয় প্রজাতির প্রাণিজ সম্পদ উন্নয়ন এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথ সুগম করবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ‘জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ-২০২৫’ র্যালি শেষে তিনি এসব কথা বলেন। র্যালিটি মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শুরু হয়ে শেরেবাংলা নগর মাঠে শেষ হয়।
র্যালির পর ‘প্রাণিসম্পদ খাতের সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, সরকার অনিরাপদ বিদেশি প্রাণিজ সম্পদ আমদানির পক্ষে নয়। দেশের ক্ষুদ্র পোল্ট্রি খামারিদের টিকিয়ে রাখতে ফিড-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান এবং সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে গ্রাজুয়েশন একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হলেও সক্ষমতা পুরোপুরি তৈরি না থাকায় ঝুঁকি থাকবে। এরপরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং নতুন উদ্যোক্তা বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রম গ্রহণ।
সেমিনারে প্রাণিসম্পদ খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, মানোন্নয়ন, বাজারব্যবস্থা, গবেষণা-উদ্ভাবন, ক্ষুদ্র খামারির টেকসই উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল কৃষি-প্রযুক্তি ও প্রাণিসম্পদ খাতে খাদ্য মান নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ, চাহিদা-সরবরাহ ভারসাম্য এবং রফতানি সম্ভাবনা বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
সেমিনারের পরিচালনা করেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসটিআই মহাপরিচালক এস এম ফেরদৌস আলম।
উল্লেখ্য, ‘দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি: প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো রাজধানীসহ সারাদেশে একযোগে উদযাপিত হয়েছে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ-২০২৫।