ঢাকারবিবার , ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুরক্ষায় মালদ্বীপে নতুন আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ১৮, ২০২৬ ৩:৩৬ অপরাহ্ণ । ১৪২ জন

মালদ্বীপে বসবাস ও কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার, মর্যাদা এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্প্রতি মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশ নেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম এবং মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের কন্ট্রোলার জেনারেল সিপি (অব.) আহমেদ ফাসীহ। শনিবার মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুরক্ষা, ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় মালদ্বীপের ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের সাম্প্রতিক ডিজিটাল উদ্যোগ সম্পর্কে হাইকমিশনারকে অবহিত করেন।

তিনি জানান, মালদ্বীপে ইতোমধ্যে ই-ভিসা সিস্টেম ও ইমিগ্রেশন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু কারিগরি সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীরা অনলাইনে ভিসার অবস্থা যাচাই করতে পারবেন। পাশাপাশি নিকট ভবিষ্যতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসা ইস্যুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল আরও জানান, বর্তমানে বৈধ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-ভিসায় রূপান্তর করা হবে। নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও তাৎক্ষণিকভাবে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

বৈঠকে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক শ্রমিক বৈধভাবে মালদ্বীপে এলেও প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান না পেয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়ছেন। তথাকথিত ‘ফ্রি-ভিসা’ প্রথা বন্ধে যৌথ সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি শ্রমিকদের শোষণ ও প্রতারণা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর তিনি জোর দেন।

এ সময় ডলার সংকট নিরসনে নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু, ন্যায্য বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি এবং প্রবাসীদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করেন হাইকমিশনার। প্রতারণায় জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আসা একাধিক অভিযোগ ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জবাবে মালদ্বীপের ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল আশ্বস্ত করে বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে প্রতারণায় জড়িত কোম্পানি ও নিয়োগকর্তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মালদ্বীপের লেবার রিলেশন অথরিটি (এলআরএ)-তে অভিযোগ দাখিলের পরামর্শ দেন।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, নতুন পাসপোর্টে কোনো তথ্য পরিবর্তন হলে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভেরিফিকেশন লেটার প্রয়োজন হবে। এছাড়া কোনো প্রবাসীকে গ্রেপ্তার বা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানানো হবে। আইনানুগ বহিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে গড়ে তিন সপ্তাহ সময় লাগে বলেও জানানো হয়।

উভয় পক্ষই দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।