ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৬ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে, নিহত ২০: নিখোঁজ অন্তত ১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ২৬, ২০২৬ ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ । ১১ জন

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গিয়ে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এসব মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু ১৪ জন এবং পুরুষ ৬ জন। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে স্বজনরা এসে তাদের পরিচয় শনাক্ত করেন। এরই মধ্যে ১৫টি মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে এখনো অন্তত ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজদের সন্ধানে নদীতে অব্যাহতভাবে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, সেনাবাহিনী, নৌপুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন।

দুর্ঘটনার প্রায় সাত ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে টেনে তোলে। এর আগে ডুবুরি দল বাসটির অবস্থান শনাক্ত করে এবং ধাপে ধাপে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পর এক নারী ও এক শিশুকে সাঁতরে উপরে উঠতে সক্ষম হন।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জানিয়েছেন, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলমান থাকবে এবং নিহতদের পরিবারকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। একইসঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পল্টন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।