উত্তর হিমালয় অঞ্চল থেকে বয়ে আসা হিমশীতল বাতাসের প্রভাবে পঞ্চগড়সহ দেশের উত্তরের জেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। যদিও গতকালের তুলনায় তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে, তবে কনকনে ঠান্ডা ও হালকা কুয়াশায় জনজীবনে ভোগান্তি কমেনি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কিছুটা কমবে।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে দেশের সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৩ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার।
গত কয়েকদিন ধরে পঞ্চগড়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়তে দেখা যাচ্ছে। দিনের বেলায় তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। সন্ধ্যার পর থেকেই হালকা কুয়াশার সঙ্গে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। রাতভর এলাকা হালকা থেকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে। ভোরে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা স্বস্তি মিললেও বিকেলের পর আবারও শীতের দাপট বাড়ছে।
এদিকে, তীব্র শীত ও হিমেল বাতাসের কারণে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সদর হাসপাতালের বহিঃবিভাগে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক রোগী সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, সর্দি ও কাশিতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, আজ সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আগামী দিনগুলোতে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।


