জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে খাদ্য মোড়কে ফ্রন্ট-অফ প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) নকশাসহ সতর্কবাণী সংযুক্ত করা হলে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণে মানুষ নিরুৎসাহিত হবে-এমন মতামত তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এ প্রেক্ষিতে খাদ্য মোড়কে এফওপিএল নকশা সংযুক্ত করে প্রবিধানমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) একটি প্রতিনিধিদল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, সেক্রেটারি, সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ); অধ্যাপক ড. রুমানা হক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নির্বাহী পরিচালক, আর্ক ফাউন্ডেশন; সহযোগী অধ্যাপক বজলুর রহমান তরফদার, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং কামরুন্নিছা মুন্না, পলিসি অ্যানালিস্ট, সিএলপিএ।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয়তে ব্যবহৃত লবণ, চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ এবং পুষ্টিগুণ সম্পর্কে স্পষ্ট ও সহজবোধ্য তথ্য প্রদানের কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বব্যাপী ফ্রন্ট-অফ প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ হ্রাসে একটি কার্যকর ও প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত।
প্রতিনিধিদল আরও জানান, খাদ্য মোড়কে সতর্কবাণী থাকলে ভোক্তারা সচেতনভাবে খাদ্য নির্বাচন করতে পারবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে। এ জন্য একটি শক্তিশালী ও কার্যকর প্রবিধান প্রণয়ন জরুরি।
এ বিষয়ে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার খাদ্য মোড়কে এফওপিএল নকশাসহ সতর্কবাণী প্রদানের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত প্রবিধানমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে লবণ, চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাদ্য ও পানীয়র মোড়কে এসব উপাদান গ্রহণ সংক্রান্ত সতর্কবাণী প্রদানের বিষয়ে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং এফওপিএল নকশার একটি চূড়ান্ত খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


